যৌতুকের টাকার দাবিতে গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা সাজানোর অভিযোগ, স্বামী কারাগারে

 প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন   |   মহানগর

যৌতুকের টাকার দাবিতে গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা সাজানোর অভিযোগ, স্বামী কারাগারে

ডেক্স নিউজ:

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের কুনিপাড়া এলাকায় জেসমিন আক্তার ওরফে বীথি (২৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। তবে পুলিশ আপাতত আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

নিহত জেসমিনের বাবা মো. ইলিয়াস ব্যাপারী দাবি করেন, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে গলা টিপে হত্যা করার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়। এ ঘটনায় তিনি হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে অভিযোগটি গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভালোবেসে ২০১৯ সালে আল আমিনকে বিয়ে করেন জেসমিন। বিয়ের পর থেকে তিনি স্বামীর পরিবারের সঙ্গে কুনিপাড়ার বন্ধু বেকারি সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার আগের দিন জেসমিন তাঁর বাবা-মায়ের বাসায় গেলে ভাশুর মোক্তার হোসেন তাঁর বাবার কাছ থেকে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পারিবারিক বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরদিন বিকেলে তিনি স্বামীর বাসায় ফিরে যান।

জেসমিনের বাবা জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মেয়ের খোঁজ নিতে তিনি বাসায় যান। তখন জেসমিনের কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্বামী আল আমিন বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুললে জেসমিনকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইলিয়াস ব্যাপারীর দাবি, স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর জেসমিনকে মারধর করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, স্বামী আল আমিন, ভাশুর মোক্তার হোসেন এবং ভাশুরের স্ত্রী মিলে তাঁকে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে বাসা তালাবদ্ধ করে চলে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে হত্যা মামলা না নিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি এজাহারে কী লেখা হয়েছে, সেটিও তাঁকে পড়ে শোনানো হয়নি বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি স্বামী আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি মোক্তার হোসেন ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের ভাষ্য, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তে হত্যার প্রমাণ মিললে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জেসমিনের স্বজনরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement