মুশতাক আহমেদের স্মৃতি ও প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করে প্রকাশিত হলো নতুন গ্রন্থ
ডেক্স নিউজ:
লেখক মুশতাক আহমেদের জীবন, কর্ম ও প্রতিবাদী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে ‘মুশতাক আহমেদ (ডিলিটেড বাই দ্য স্টেট)’ শীর্ষক গ্রন্থ। এ উপলক্ষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডস্থ প্রবর্তনায় আজ এক প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা সভার আয়োজন করে গয়রহ প্রকাশনী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, লেখক মুশতাক আহমেদ ছিলেন একজন সাহসী ও মানবিক কণ্ঠস্বর, যিনি সমাজের নানা অসঙ্গতি ও মানবাধিকার প্রশ্নে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর চিন্তা, লেখনী ও প্রতিবাদী অবস্থান ভবিষ্যতেও সমাজে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে মুশতাক আহমেদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য গভীর আত্মসমালোচনার বিষয়।
গ্রন্থটির সংকলক ও সম্পাদক মনজুর হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং বিভিন্ন দলিল পর্যালোচনার মাধ্যমে বইটি প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁর মতে, বইটি শুধু একজন লেখকের স্মৃতিচারণ নয়, বরং একটি সময় ও বাস্তবতার দলিল।
আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন বলেন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সমাজকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
মুশতাক আহমেদের ভাই নাফিসুর রহমান তাঁর স্মৃতিচারণে বলেন, মুশতাক ছিলেন নির্ভীক ও অনুসন্ধিৎসু মানুষ। পরিবেশ, বন্যপ্রাণী, মানবাধিকার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
বন্ধু আনিসদৌল্লা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, লেখালেখির পাশাপাশি ভ্রমণ ও আলোকচিত্রচর্চায়ও মুশতাক আহমেদের বিশেষ আগ্রহ ছিল। একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন তিনি লালন করতেন।
গয়রহ প্রকাশনীর পক্ষে মানবাধিকারকর্মী ছন্দা মাহবুব বলেন, ভয়ের সংস্কৃতি ও নীরবতার বিপরীতে সত্য ও সাহসের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই বইটি স্মরণ করিয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রুছেলী খান। এ সময় লেখক মুশতাক আহমেদের মা জেবুন্নেসা রাজ্জাক, স্ত্রী মাসিয়া আক্তারসহ সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবাধিকার অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।