নৌযানের সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি হবে: খুলনায় নৌযান শুমারি শুরু
খুলনা ব্যুরো :
খুলনায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমের প্রচার শুরু হয়েছে। সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী এ শুমারি অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (১৯ আগষ্ট) সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নৌযান শুমারি উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় এ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা, জেলা পরিসংখ্যান দপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আইয়ুব হোসেনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে শুরু হয়। পরে জেলখানা ঘাটসহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ শুমারি পরিচালিত হচ্ছে। শুমারির মাধ্যমে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সব নৌযান এবং অন্য যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কা দিয়ে চালিত নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
শুমারির মূল লক্ষ্য নৌপরিবহন খাতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা। এর মাধ্যমে নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত, দুর্ঘটনা কমানো, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত মালিক-শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণ এবং নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ নৌযান সম্পর্কে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত পরিসংখ্যানের ঘাটতি রয়েছে। শুমারির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করে জাতীয় পর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। নৌদুর্ঘটনার পর প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান, নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা এবং নৌপরিবহন খাতের নীতি নির্ধারণেও এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুমারিতে সংগৃহীত তথ্য পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ‘ন্যাশনাল ডাটা’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।