বিষমুক্ত মাছ উৎপাদনে জোর, মৎস্যজীবীদের জন্য আসছে ‘মৎস্যকার্ড’
মাসুদ আল হাসান, খুলনা :
মাছ উৎপাদনে ক্ষতিকর বিষ ও রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেছেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। মৎস্যজীবীদের সহায়তায় কৃষক কার্ডের আদলে ‘মৎস্যকার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও করছে সরকার।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আজ সোমবার দুপুরে খুলনার গল্লামারী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের সম্মেলনকক্ষে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদনবিষয়ক অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়। খুলনা জেলা মৎস্য অধিদপ্তর এ সভার আয়োজন করে।
এবারের জাতীয় মৎস্য পক্ষের প্রতিপাদ্য—‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দেশের মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কৃষিজ উৎপাদনে এ খাতের অবদান ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ।
বক্তারা আরও বলেন, মাছ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। মাছের ওজন বা আকার বাড়াতে ক্ষতিকর বিষ কিংবা রাসায়নিক দ্রব্য পুশ করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত মাছ নিশ্চিত করা না গেলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি দেশের মৎস্য খাতের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সভায় জানানো হয়, দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মাছের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৬৮ গ্রাম মাছ গ্রহণ করছেন।
মৎস্যজীবীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। বক্তারা জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের মতো মৎস্যজীবীদের জন্যও ‘মৎস্যকার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিভিন্ন সরকারি সহায়তার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ম্যানেজার মো. মুক্তাদির খান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক, সিনিয়র সহকারী পরিচালক এইচ এম বদরুজ্জামান ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ টি এম তৌফিক মাহমুদ।
সভায় ‘মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল কুমার রায়।
মতবিনিময় সভায় মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, মৎস্য আহরণকারী, বোট মালিক, নৌকার চালকসহ মৎস্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনেরা অংশ নেন। তাঁরা মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং টেকসইভাবে মৎস্য আহরণের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।