ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, কাঠগড়ায় ছাত্রদল-যুবদল
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর এক অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পরপরই পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং তিনজনের মাথা ফেটে গেছে বলে জানা গেছে। এই হামলার পেছনে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ ঝিনাইদহে অবস্থান করছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দুপুর দুইটার পর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তিনি ও তাঁর সাথে থাকা নেতাকর্মীরা। নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পরপরই ওত পেতে থাকা একদল যুবক তাঁদের ওপর চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা আকস্মিকভাবে প্রথমে ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতভাবে নেতাকর্মীদের ওপর আঘাত করতে থাকে।
হামলার তীব্রতায় এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এ সময় হামলাকারীদের হকিস্টিক ও ইটের আঘাতে তিনজনের মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং দলটির যুগ্ম সদস্য তারেক রেজাকে লক্ষ্য করেও উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের তাণ্ডব থামানো যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের পাশাপাশি হামলাকারীরা নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মূল্যবান মুঠোফোন, সংবাদ সংগ্রহের ক্যামেরা এবং পকেটে থাকা মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পরপরই আহত নেতাকর্মীদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এনসিপির ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হামিদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই বর্বর হামলার পর তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে ঝিনাইদহ সদর থানায় অবস্থান নেন।
এদিকে হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা ৩টা ১০ মিনিটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে। এমনকি থানায় আশ্রয় নেওয়ার পরও ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা থানার বাইরে জড়ো হয়ে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি তাঁর পোস্টে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই ফেসবুক পোস্টের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে এই হামলাকে দেশের উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তির কণ্ঠরোধ করার একটি অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ঘটনার পর ঝিনাইদহ সদর থানা এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল কিংবা বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।