সুন্দরবনে অবৈধ কাঁকড়া শিকার নিয়ে বিতর্ক, ট্রলার ছাড়ার অভিযোগ
খুলনা ব্যুরো :
সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধ কাঁকড়া শিকার দমনে অভিযানের পর বনবিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বনজীবী ও জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
গত শনিবার পূর্ব সুন্দরবনের শেলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শেলার খালে বন বিভাগের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় অবৈধভাবে কাঁকড়া শিকারের অভিযোগে সোহান শেখ ও ডালিম শেখ নামে দুই জেলেকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী এলাকায়। পরে রবিবার তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযানের সময় দুটি নৌকা, সাড়ে তিন শতাধিক নিষিদ্ধ ‘চার’ এবং কাঁকড়া বোঝাই একটি বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ওই ট্রলারসহ কয়েকজন জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, জব্দকৃত ট্রলারটি পেড়িখালী এলাকার প্রভাবশালী কাঁকড়া ব্যবসায়ী শাহাদৎ মোড়লের মালিকানাধীন। ফাঁড়িতে আনার পর নেপথ্যে তদবির ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ট্রলার ও মূল অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দুই সাধারণ জেলেকে আসামি করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ ঘটনায় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পার পেয়ে গেলেও দরিদ্র জেলেরাই আইনি জটিলতায় পড়ছেন।
তবে শেলা টহল ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আর্থিক লেনদেন বা কাউকে ছাড় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন আইনে নিয়ম অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। যদিও জব্দ তালিকায় ট্রলারের উল্লেখ না থাকার বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।