পবিত্র হজের উদ্দেশে দেশ ছাড়ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
ডেক্স নিউজ:
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান। আগামীকাল বুধবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি জেদ্দার উদ্দেশে রওনা হবেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে বেশ ইতিবাচক আলোচনা চলছে, কারণ দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতার রাষ্ট্রীয় এই ব্যস্ততার মাঝে ধর্মীয় ফরজ ইবাদত পালনের বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডা. শফিকুর রহমান পবিত্র হজ পালনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং সফরকালে তিনি বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, হজের আনুষ্ঠানিকতা এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে আগামী ১ জুন তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
দলীয় ও পারিবারিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, জামায়াত আমিরের এই সফরটি মূলত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং ধর্মীয় অনুভূতি থেকে নেওয়া। প্রতি বছরই বাংলাদেশ থেকে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান আল্লাহর ঘর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা ও মদীনায় গমন করেন। ডা. শফিকুর রহমানও এবার সেই পুণ্যযাত্রায় শামিল হচ্ছেন। তবে দেশের প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ায় তাঁর এই সফরের পেছনে প্রোটোকল ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে, যা ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সৌদি দূতাবাসের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানের অনুপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম যেন স্থবির হয়ে না পড়ে, সেজন্য ইতিমধ্যেই দলের ভেতরে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিকালীন সময়ে দল ও সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য শীর্ষ নেতারা রুটিন কার্যক্রম এগিয়ে নেবেন। দলের নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের আমিরের সুস্বাস্থ্য এবং নিরাপদ সফর কামনা করে বার্তা দিচ্ছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে ডা. শফিকুর রহমানের হজের সফর যেন নির্বিঘ্ন ও কবুল হয়, সেজন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।