‘বিভেদ নয়, সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয় সরকারের’ সিলেটে স্পেশাল এবিলিটি সামিটে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন
বিশেষ প্রতিবেদক, সিলেট:
কোনো রাজনৈতিক মতভেদ কিংবা শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন কোনো নাগরিকের অধিকার প্রাপ্তিতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় সমানভাবে পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের এই যাত্রায় কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে সিলেটের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজিত ‘স্পেশাল এবিলিটি সামিট’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘হিউম্যান কেয়ার’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিশেষ শিশু, তাদের অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং চিকিৎসকেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিভেদ কিংবা বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতেই বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি বিশেষ শিশুদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধী নাগরিকরা সমাজের বোঝা নন, সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে তারাও দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারেন। এই লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ভ্রাম্যমাণ সেবার সুযোগ করে দেওয়ার একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত ও সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত শিশুরাও ঘরে বসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও থেরাপি সুবিধা পেতে পারে।
বিশেষ শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই শিশুদের জন্য একটি সংবেদনশীল ও সুরক্ষামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। হিউম্যান কেয়ার-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে এবং তাদের অধিকার নিয়ে সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতেই এই সামিটের আয়োজন করা হয়েছে। অভিভাবকেরা যেন নিজেদের একা না ভাবেন এবং এই শিশুদের লালন-পালনে সঠিক দিকনির্দেশনা পান, সেটিও এই আয়োজনের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে অবদান রাখতে পারেন। সরকার দেশে ও প্রবাসে থাকা সকল বাংলাদেশির সমন্বয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সামিটে বিশেষজ্ঞরা বিশেষ শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ, স্পিচ থেরাপির গুরুত্ব এবং প্রারম্ভিক হস্তক্ষেপের (আর্লি ইন্টারভেনশন) নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিকেলে শিশুদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী এই সামিটের সমাপ্তি ঘটে।