২০৩৫ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, লক্ষ্য পূরণে কৃষিতে মহাপরিকল্পনা সরকারের

 প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

২০৩৫ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, লক্ষ্য পূরণে কৃষিতে মহাপরিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

​জাতীয় বাজেটে কৃষির টেকসই উন্নয়ন ও প্রান্তিক কৃষকদের নানামুখী সংকট উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে সরকার। আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তার অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কৃষি খাতকে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মোট ৩ লাখ কোটি টাকার বাজেটের মধ্য থেকে ১০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা কেবল কৃষি খাতের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হবে।

​মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়ন' শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারে সরকারের নীতিনির্ধারকরা এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে উত্তরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষির রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি। কৃষিকে যদি দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে প্রধানত তিনটি জায়গায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। এগুলো হলো জমির সঠিক ব্যবহার, আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ। একই সাথে দেশে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হচ্ছে, যা রোধে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

​অনুষ্ঠানে বর্তমান বাজার ও বিপণন ব্যবস্থার নানা ত্রুটি এবং কৃষকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন যে, কৃষির মূল সমস্যাটি আসলে রয়ে গেছে পরিকল্পনাতেই। মাঠপর্যায় থেকে সরকারিভাবে ধান কেনার যে প্রচলিত পলিসি বা নীতিমালা রয়েছে, তার গলদের কারণেই সরকার সরাসরি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে পারে না। এর ফলে সাধারণ কৃষকেরা ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পুরো ব্যবস্থার ফায়দা লুটে নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়ারা। এছাড়া দেশের বাজারে পণ্যের প্রকৃত চাহিদার সঠিক পরিসংখ্যান উৎপাদনকারী তথা কৃষকদের জানা না থাকায় একদিকে যেমন সরবরাহ ও মূল্যের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারাও সঠিক দামে পণ্য কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সংকট থেকে উত্তরণে এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার দেশজুড়ে কয়েক হাজার 'মিনি কোল্ডস্টোরেজ' বা ক্ষুদ্র হিমাগার তৈরির একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মূল চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে কৃষি। তাই বাজেটের অপচয় পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হলে, বর্তমানে যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তা দিয়েই দেশের কৃষি খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব।

​সেমিনারে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়ন ও সুরক্ষার বিষয়ে কথা বলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি জানান, পশুর চিকিৎসায় ও রোগ প্রতিরোধে বিদেশি ভ্যাকসিনের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত তা দেশেই উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ পোল্ট্রি শিল্পে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না এবং তা সম্পূর্ণ বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সাথে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার ওপর জোর দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, দেশের শাসক বা নীতিনির্ধারকেরা যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন, তবে বিগত ফ্যাসিবাদের মতোই তাদেরও জনগণ কর্তৃক বিতাড়িত হতে হবে। দেশকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নিতে হলে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সব ধরনের ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে গভীর দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা সকলেই একমত পোষণ করেন যে, নতুন বাজেটের এই বরাদ্দ ও পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রান্তিক কৃষকের জীবনমানের যেমন উন্নয়ন ঘটবে, তেমনি বাংলাদেশও দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement