কেসিসির নদী-খাল রক্ষার সীমানা পিলার লুট, হারিয়ে গেছে খুলনাবাসীর স্বপ্নের প্রকল্প
খুলনা ব্যুরো :
খুলনা মহানগরীর নদী ও খাল দখলমুক্ত রাখতে স্থাপিত হাজার হাজার সীমানা পিলার লুট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পুনরায় ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে কেসিসির উদ্ধারকৃত জমি। তবে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) প্রশাসন।
জানা যায়, ২০১৪-১৫ সালে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে আন্দোলনের পর খুলনা সিটি কর্পোরেশন নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। জেলা প্রশাসন ও বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদ করে মহানগরীর ময়ূর নদসহ ২৯টি নদী ও খালের সীমানা নির্ধারণে কয়েক হাজার সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়। প্রায় অর্ধ কোটি টাকার এ প্রকল্পে কেসিসির সম্পত্তি শাখাকে সহায়তা করে পূর্ত বিভাগ।
প্রকল্পের আওতায় নদী-খাল খনন, পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, গাছ লাগানো, বেঞ্চ স্থাপন এবং প্যাডেল বোট চালুর মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, খনন কাজ শুরুর পর থেকেই সীমানা পিলারগুলো একে একে হারিয়ে যেতে থাকে। ফলে নির্ধারিত সীমানা ছাড়া খনন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেসিসির একাধিক সূত্র জানায়, খাল খননের সময় ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টরা অনেক ক্ষেত্রে সীমানা পিলার সরিয়ে ফেলেন। এতে প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী ওয়াকওয়ে, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্ষুদে নদী, ময়ূর নদ (আংশিক) ও কয়েকটি খালের খনন কাজ সম্পন্ন হলেও নগরবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অধিকাংশ সীমানা পিলার চুরি হয়েছে।
সীমানা পিলার চুরির ঘটনায় মামলা বা জিডি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে কেসিসির এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে সীমানা পিলার হারিয়ে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। দ্রুত নতুন পিলার স্থাপন, দখলমুক্ত অভিযান এবং ঘটনার তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানান। উদ্ধারকৃত জমিতে গাছ লাগিয়ে স্থায়ী সীমানা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।