খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন: হুড়োহুড়িতে আতঙ্ক, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট

 প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন   |   খুলনা

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন: হুড়োহুড়িতে আতঙ্ক, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট

প্রতিবেদক, খুলনা 

​বুধবারের শান্ত সকালটা মুহূর্তেই রূপ নেয় চরম আতঙ্কে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের চতুর্থ তলা থেকে হঠাৎ কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে পুরো হাসপাতালজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। রোগীদের জীবন বাঁচাতে স্বজনদের আর্তনাদ, নার্স ও চিকিৎসকদের দিকবিদিক ছোটাছুটি এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় চারদিকের বাতাস ভারী হয়ে উঠলে এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সকালের এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। আগুনের তীব্রতা ও হাসপাতালের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে একে একে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট উদ্ধারকাজে যোগ দেয় এবং প্রায় ঘণ্টাখানেকের নিরলস চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে হাসপাতালের চতুর্থ তলার একটি ওয়ার্ড বা করিডোর সংলগ্ন অংশ থেকে প্রথম ধোঁয়ার সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় চতুর্থ তলাসহ আশপাশের ওয়ার্ডের রোগীদের দ্রুত নিচে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অনেক গুরুতর অসুস্থ রোগীকে তাদের স্বজনেরা স্ট্রেচার ছাড়াই কোলে করে কিংবা চাদরে জড়িয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগীরা হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে সাময়িকভাবে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক, ইন্টার্ন ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো ট্র্যাজেডি ছাড়াই অধিকাংশ রোগীকে সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

​ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় আগুন লাগার খবরটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা দ্রুততম সময়ে রেসপন্স করেছেন। সংকীর্ণ প্রবেশপথ এবং চারদিকের উপচে পড়া ভিড় ঠেলে কাজ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে ১০টি ইউনিটের সমন্বিত ও কৌশলগত প্রচেষ্টায় আগুনকে ভবনের অন্য তলা বা ওয়ার্ডগুলোতে ছড়াতে দেওয়া হয়নি। ফায়ার ফাইটাররা ভবনের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরের বিষাক্ত ধোঁয়া বের করার ব্যবস্থা করেন এবং একই সাথে ভেতরে আটকে পড়া কাউকে উদ্ধার করতে তল্লাশি অভিযান চালান।

​এদিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং হাসপাতালের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement