মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: মানবিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত
“মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে—একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?”
প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মান্না দে-এর কালজয়ী এই গানের বাণী মানবসেবার চেতনাকে আজও অনুপ্রাণিত করে। সেই মানবিক চেতনার বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছেন সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত।
সোনারগাঁওয়ের কৃতী সন্তান ডা. দিগন্ত বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিয়মিতভাবে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি তিনি ভাটিবন্দর মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করেন। তবে এটি কোনো এককালীন উদ্যোগ নয়। চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরুর পর থেকেই তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বেচ্ছাসেবামূলক চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করে আসছেন।
এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তিনি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ওষুধ সংগ্রহ ও বিতরণ করে আসছেন এবং তার এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করতে পেরে তারা আনন্দিত।
স্থানীয়দের দাবি, নিজ এলাকার রোগীদের কাছ থেকে তিনি কোনো ধরনের ভিজিট নেন না। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় এলাকার মানুষ সহজেই তার পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন।
ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত বলেন,
“সোনারগাঁওয়ের কোনো মানুষ যেন অর্থের অভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই আমার চেষ্টা। যতদিন বেঁচে থাকব, চিকিৎসার অভাবে কাউকে কষ্ট পেতে দিতে চাই না। নিজের পরিবারে চিকিৎসার অভাবে মানুষের অসহায়ত্ব খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন সারাজীবন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ ধরনের উদ্যোগ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাগত নিষ্ঠার সমন্বয়ে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত সোনারগাঁওবাসীর কাছে একজন আস্থাভাজন চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তার সেবামূলক কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।