ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগে নতুন তদন্ত কমিটি, বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে তীব্র আলোচনার ঝড়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে বহু বছর আগে নিষ্পত্তি হওয়া চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ আবারও তদন্তের মুখে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে আইন অনুষদের ডিনকে আহ্বায়ক করে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যা অনেকের কাছে নজিরবিহীন বলে মনে হচ্ছে।
২০১৮ সালে অধ্যাপক মুশতাক আহমদ ও অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে প্রথমবার চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের (বিজি) সিদ্ধান্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি জানায়, সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটি অস্ট্রেলিয়ায় জমা দেওয়া হলেও তা চূড়ান্তভাবে গৃহীত বা প্রকাশিত হয়নি। সাময়িকীতে প্রকাশকাল, সংখ্যাক্রম বা খণ্ডসংখ্যা উল্লেখ না থাকায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তীতে বিজি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
কিন্তু প্রায় আট বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই একই অভিযোগ আবারও উত্থাপিত হয়। নতুন অভিযোগে শুধু অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও গবেষণাপত্রটির লেখক ছিলেন তিনজন। এ কারণে অনেক শিক্ষক মনে করছেন, অভিযোগের পেছনে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রতিহিংসার বিষয় থাকতে পারে।
অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক বলেন, “বিজির সিদ্ধান্তে আমাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আট বছর ধরে আমি অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষাক্ষেত্রে আমার অবদানের কারণে প্রতিহিংসাপরায়ণ কিছু মহল আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্র করছে।”
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইন বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতেই নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী মহলে প্রশ্ন উঠেছে—বিজি অনুমোদিত একটি সিদ্ধান্ত পুনরায় তদন্তের আওতায় আনা কতটা যৌক্তিক। কেউ কেউ বলছেন, নতুন কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগে আবার তদন্ত শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজে এ নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একদল মনে করছেন, অভিযোগ পুনর্বিবেচনা করা উচিত, যাতে শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। অন্যরা মনে করছেন, এটি শিক্ষকদের হয়রানি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার একটি কৌশল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগে পুনরায় তদন্ত কমিটি গঠনের ঘটনা বিরল। ফলে বিষয়টি শুধু আইবিএ নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।