চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপি মান্নানের ছেলে সজীব ডিবি হেফাজতে, যুবদল থেকে বহিষ্কার

 প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন   |   ঢাকা

চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপি মান্নানের ছেলে সজীব ডিবি হেফাজতে, যুবদল থেকে বহিষ্কার

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে এবং জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করেছে যুবদল।

রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবির যৌথ অভিযানে সজীবকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সন্ধ্যায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকার মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে সজীবের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে কয়েকজন পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সজীবকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, নানা অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে খাইরুল ইসলাম সজীবকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। রোববার রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেলের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত নেতার কোনো কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না এবং দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তবে মামলা কিংবা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।

একাধিক সূত্রের ভাষ্য, সম্প্রতি একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কিছু পুরোনো মালামাল বিনামূল্যে দেওয়ার জন্যও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হয়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement