আড়াইহাজারে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন, আধুনিক তাঁতশিল্প গড়তে নতুন উদ্যোগ- বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ |
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষতা-ভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাঁতিদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এ শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় নবনির্মিত তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আড়াইহাজারে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা দেশের তাঁতশিল্পের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী নকশা, দক্ষ জনশক্তি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, শিল্পসমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার দীর্ঘদিন ধরে তাঁতশিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৭ সালে এখানে বেসিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁতিদের প্রাতিষ্ঠানিক সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কেন্দ্রটির আওতায় ৫১টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক তাঁতি সমিতি রয়েছে। এসব সমিতির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬৬০ জন তাঁতিকে প্রায় ১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আড়াইহাজার ও আশপাশের এলাকায় জামদানি, বেনারসি, থ্রি-পিস, মশারিসহ বিভিন্ন ধরনের তাঁতপণ্য উৎপাদিত হয়, যা দেশের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই শিল্পের সংরক্ষণ, আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
মো. শরীফুল আলম বলেন, হারিয়ে যেতে বসা মসলিন, জামদানি, বেনারসি এবং অন্যান্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে রূপগঞ্জে মসলিন পল্লী ও জামদানি পল্লী স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁতিদের আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদনে সক্ষম করে তোলাই এসব প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, তাঁতশিল্পের পাশাপাশি পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবনেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। উন্নতমানের পাটবীজ উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বন্ধ পাটকল ও বস্ত্রকলগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগ, সরকার-টু-সরকার (G2G), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) এবং দীর্ঘমেয়াদি লিজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁতশিল্পকে কেবল ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময়, সৃজনশীল ও লাভজনক অর্থনৈতিক খাত হিসেবে দেখতে হবে। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়লে এই শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমেদ ছিদ্দীকী, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিফাত উদ্দিন এবং আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।