আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সাবেক সভাপতির
নুরুজ্জামান আশরাফ,বাজিতপুর,কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি মনিজ্জামান মনির। তিনি এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় ভাগলপুরের রশি মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মনিরুজ্জামান মনির।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,মরহুম আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে ভাগলপুরে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে এলেও কতিপয় ব্যক্তির দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনিরুজ্জামান মনির অভিযোগ করেন,২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন ও নির্মাণ ব্যয় বাবদ প্রায় ২০ কোটি টাকা দেখানো হলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজের সঙ্গে ওই ব্যয়ের সামঞ্জস্য নেই। এছাড়া পরীক্ষা ফি বাবদ প্রতিবছর আদায়কৃত প্রায় ২০ লাখ টাকা,গত ১৩ বছরে সার্টিফিকেট প্রদান বাবদ পাওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকা,শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট ও প্রণোদনা তহবিলের অর্থ, স্কুল ফান্ডের অর্থে কেনা টাই, ব্যাজ, সোল্ডার ও ডায়েরি বিক্রির প্রায় ৫০ লাখ টাকা এবং বিলম্বিত ভর্তি থেকে পাওয়া অর্থ প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে জমা না দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়াও তিনি ‘ইসলাম গ্রুপ’ থেকে পাওয়া অর্থ, কোচিংয়ের আয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ, জেনারেটর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে আদায়কৃত অর্থ এবং প্রতিষ্ঠানের ভাড়া দেওয়া সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মস্তু মিয়া, সাবেক অধ্যক্ষ সেলিনা আক্তার, সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান,বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক মো.মাসুম মিয়া,সিনিয়র সহকারী শিক্ষক চন্দা রানী দেবনাথ ও অফিস সহকারী আশিষ দেবনাথসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মনিরুজ্জামান মনির আরও বলেন, তিনি প্রায় এক মাস প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠান অংশের বেতন দ্বিগুণ করার উদ্যোগ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্রয় কমিটি, অর্থ কমিটি ও শৃঙ্খলা উপকমিটিসহ বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, এরই মধ্যে কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই তাদের গভর্নিং বডি ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দ্রুত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র এবং অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের সব আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক,অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।