সুন্দরগঞ্জে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য বিএনপি সভাপতি হত্যা মামলার আসামি বিপুলের বিরুদ্ধে জমি জবর দখল ও মারপিটের অভিযোগ

 প্রকাশ: ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন   |   রংপুর

সুন্দরগঞ্জে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য বিএনপি সভাপতি হত্যা মামলার আসামি বিপুলের বিরুদ্ধে জমি জবর দখল ও মারপিটের অভিযোগ

শামীম পারভেজ গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ইউনিয়নের সেনা সদস্য নাজিম এর বসত ভিটায় অনধিকার প্রবেশ করে,জমি জবর দখল ও মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য বিপুল সোনার এর বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে।শুধু এটিই নয় তার বিরুদ্ধে কাশিমবাজার এলাকায় নিরিহ মানুষ অযথা মারপিট,টাকার বিনিময় অন্যের জমি দখল সহ অনেক অভিযোগ আছে বলে জানা যায়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১১ নং হরিপুর ইউনিয়নের কাশিম বাজার,লখিয়ারপাড়া,গ্রামের নুরনবী সোনার এর পুত্র বিপুল সোনার,২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ সেনাবাহীতে যোগদান করেন,এবং চাকরি করাকালিন সময়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন,কিছু দিন ঘর সংসার করার পর ১ম স্ত্রী থাকা সত্তেও তার অনুমতি না নিয়ে,গোপনে ২য় বিয়ে করেন বিপুল সোনার,হঠাৎ একদিন বিপুল ২য় স্ত্রী কে সাথে নিয়ে নিজ বাড়ীতে আসেন,বাড়ীতে নিয়ে আসার পরের দিন থেকেই ১ম স্ত্রীর উপর শুরু হয় নির্মম নির্যাতন,১ম স্ত্রী নির্যাতন সহ করতে না পেরে তার বাবার বাড়ীতে চলে যায়।কিছুদিন পরে বিপুল সোনারের নামে ১ম স্ত্রী সেনা দপ্তর একটি নারী নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন,অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণ পায়।ফলে ২০১৮ সালে বিপুল সোনার কে চাকুরীচ্যুত করেন,চাকরি চলে যাওয়া পরে বিপুল সোনার এলাকায় এসে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করতে থাকেন,বিপুল ২য় স্ত্রীকে বাবার বাড়ী থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে ২য় স্ত্রী তাতে রাজী না হলে,স্ত্রীর উপর চালায় নির্মম নির্যাতন,২য় স্ত্রী নির্যাতন সহ করতে না পেরে সেও চলে যায়,পরে রাগে ক্ষোভে বিপুল ২য় স্ত্রীর কিছু নগ্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেরে দেয়,পরে বিপুলের ২য় স্ত্রী বাদী হয়ে তার নামে থানায় একটি পূর্ণগ্রাফি মামলা এবং পরে যৌতুকের মামলা দায়ের করেন।

পূর্ণগ্রাফি মামলায় জেল খেটে বের হয়ে,তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্র ছায়ায় চলে যান।আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে বিপুল কাশিমবাজার তথা হরিপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন,তারেই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে ১১নং হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম কে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রকাশ্যে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন।বিপুলের নামে একটি হত্যা হয়। মামলাটি এখনো চলমান আছে।হত্যা মামলায় জামিনে বের হয়ে,আরো ভয়ংকর রুপ ধারণ করেন বিপুল সোনার।উল্লেখ থাকে যে বিপুলের নামে হত্যা সহ যেমন,ধর্ষন চেষ্টা,নারী নির্যাতন,ইভটিজিং,মারপিট,অবৈধ বালু উত্তোলন,অন্যের জমি জবর দখলের অপরাধে বিপুলের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ ও চিলমারী থানায় একের অধিক মামলা আছে,যা বর্তমানে আদালতে  চলমান আছে।স্থানীয়দের ভাষ্য মতে বিপুল সমাজের একটা ক্যান্সার এটাকে যদি এখনে নির্মূল করা না যায়,তাহলে আরো বড় ধরনের অপরাধ করে বসবে,বিপুলের নির্যাতনের স্বীকার অনেক পরিবার তারা বলেন এই সন্ত্রাসী বিপুল কে গ্রেফতার করে শাস্তির আওয়াতায় আনা হউক।এ বিষয়ে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহসভাপতি,আলহাজ্ব মোজাহারুল ইসলাম জানান,কাশেম বাজার এলাকার লোক জন এই সন্ত্রাসী বিপুলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভয়ে অতিষ্ঠ,আজ একে মারে কাল ওর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়,অন্যায় ভাবে টাকার বিনিময়ে অন্যের জমি জবর দখল করে,এই বিপুলের ভয়ে রাস্তা ঘাটে কারো স্ত্রী সন্তান ঠিক ভাবে চলাফেরা করতে পারে না।এ ছাড়াও আমি নিজে চেয়ারম্যান তবুও এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের স্বীকার হয়েছি।

তৎকালীন ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ এর প্রভাব খাটিয়ে এই কাশেম বাজারে হাজারো লোকের সামনে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাকে মারতে এসেছিল,পরে স্থানীয়দের বাধার মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।এছাড়াও কিছু দিন আগেই মিলন নামে একজন কে ছোট্ট একটি ঘটনা কে কেন্দ্র করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে,ছেলেটি বাঁচার কথা ছিল না আল্লাহ রহমতে দীর্ঘ দিন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে সুস্থ হয়ে বেচে আছে,এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়।আমি এলাকার জনগনের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসাবে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,এই সন্ত্রাসী বিপুল কে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি।

এবিষয়ে বিপুল সোনার এর সাথে দেখা করতে তার বাড়ীতে গেলে তাকে না পেয়ে,ফোনে অনেক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায় নাই। এ বিষয় সুন্দরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ শাহীন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ,বলেন বিপুল সোনার এর নামে আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ আছে,তার বিরুদ্ধে অন্যের জমি জবর দখল ও মারাপিটের অভিযোগে মামলা হয়েছে,বর্তমানে সে পলাতক আছে আমরা বিপুল কে গ্রেফতারে চেষ্টা করছি,দ্রুত গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে বলে জানান।