বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে এনসিপি: শাহবাগে উত্তাল বিক্ষোভ মিছিল
মহানগর ডেস্ক:
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে নেমেছে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)। জনজীবনে চরম অসন্তোষের আবহ তৈরি করা এই সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র বাংলামোটর থেকে শাহবাগ পর্যন্ত একটি বিশাল ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র গরমেও ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ, যেখানে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
রাতের স্তব্ধতা ভেঙে বাংলামোটর মোড় থেকে যখন মিছিলটি যাত্রা শুরু করে, তখন দলটির হাজারো নেতাকর্মী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দফায় দফায় দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিলটির অগ্রভাগে নেতৃত্ব দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ দলের শীর্ষস্থানীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি যখন গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়, তখন সেখানে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘জনবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তার ওপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে উৎপাদন খাত থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরেক দফা আকাশচুম্বী হবে। এর সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়বে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়কে এক অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে ঠেকাবে। ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের পকেট কাটার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে ঢাকাসহ দেশজুড়ে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম যুবসমাজকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, এর মূল্যবৃদ্ধির ফলে তরুণ উদ্যোক্তা এবং সাধারণ কর্মজীবী মানুষ তীব্র সংকটে পড়বে। বক্তারা প্রত্যেকেই জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার এবং জনগণের কষ্ট লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিটি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তবে এর মাধ্যমে জনমনে জমে থাকা ক্ষোভের এক জোরালো বহিঃপ্রকাশ ঘটে।