‘গুপ্তলীগ’-এর ‘গুপ্ত মিছিল’ প্রতিহত করার ডাক চট্টগ্রাম ছাত্রদলের

 প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন   |   চট্টগ্রাম

‘গুপ্তলীগ’-এর ‘গুপ্ত মিছিল’ প্রতিহত করার ডাক চট্টগ্রাম ছাত্রদলের

অনলাইন ডেস্ক:

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল। বিগত সরকারের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের মাঝেও ছাত্রলীগের এমন আচমকা কর্মকাণ্ডকে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন ছাত্রদলের নেতারা। এর প্রতিবাদে বন্দরনগরীতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৩টায় নগরীর ব্যস্ততম জিইসি মোড় এলাকা থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। ‘ষড়যন্ত্রকারীদের দিন শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই মূল স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত মিছিলে ছাত্রদলের প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় উত্তাল স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

বিক্ষোভ মিছিলে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মিঠু এবং সদস্য কামরুল হাসান আকাশ। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদল নেতারা পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা ছাত্রলীগকে ‘গুপ্তলীগ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দিনের আলোতে রাজনীতি করার নৈতিক সাহস হারিয়ে এখন তারা রাতের আঁধারে বা আচমকা ‘গুপ্ত মিছিল’ করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ধরনের গুপ্ত মিছিলের মাধ্যমে তারা মূলত দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার বার্তা দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই শুভকর নয়। এই অপশক্তিকে কঠোর হস্তে দমন করতে তারা নগরবাসী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মিঠু বলেন, বাংলাদেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কোনো ষড়যন্ত্রকারীর স্থান হবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শান্তির বার্তা দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং দেশবিরোধী সব ধরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে তারা মাঠে আছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের সার্বিক নির্দেশনায় নগর ছাত্রদল এই কর্মসূচি সফল করেছে এবং আগামী দিনেও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোনো দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে তারা রাজপথে সোচ্চার থাকবেন।

আরেক ছাত্রদল নেতা কামরুল হাসান আকাশ তাঁর বক্তব্যে ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশের মানুষের ওপর যে নির্মম গণহত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার জন্য জনগণের কাছে বিন্দুমাত্র ক্ষমা না চেয়ে পুনরায় রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার এই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেই। চট্টগ্রামে মিছিলের নামে যারা নতুন করে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের আর এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে অতি দ্রুত এই ‘গুপ্ত মিছিল’কারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।


উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে মহানগর ও বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিভাসু ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহরিয়ার, নগর ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফ, পাঁচলাইশ থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহীন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নজরুল ইসলাম নিলয়, মো. জিন্নাহ, মোহাম্মদ রকি, জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় ও হৃদয় আজাদ। এছাড়াও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানা, কলেজ এবং ওয়ার্ড পর্যায় থেকে আসা বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী মিছিলের সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেন, যা নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে ছাত্রদলের অবস্থান ও শক্তি প্রদর্শনের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement