চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন

 প্রকাশ: ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন

সফি রহমান:

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শেষ ধাপে রয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে আগামী সপ্তাহেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো আগামী অক্টোবর থেকে কার্যকরভাবে বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলেও এর কার্যকারিতা ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। সে ক্ষেত্রে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করে পরবর্তী সময়ে বকেয়া অর্থ সমন্বয় করা হতে পারে।

চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে চলছে প্রস্তুতি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির জন্য প্রয়োজনীয় কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের এজেন্ডায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে।

তবে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য তৈরি করা চূড়ান্ত খসড়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ঠিক কত শতাংশ বাড়ানো হবে, তা এখনো প্রকাশ্যে জানা যায়নি।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এটি ঘোষণা করা হতে পারে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন

গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের সচিব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।

মূল বেতন বাড়ানোর সুপারিশ

সচিব কমিটির সুপারিশে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এটি একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো এবং পরবর্তী বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা রয়েছে।

১ জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণা

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বাস্তবতায় ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পে স্কেলের জন্য বড় বরাদ্দ

সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ই-বুকে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

সব প্রস্তুতি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোলে আগামী সপ্তাহেই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর।