যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর বৈঠক

 প্রকাশ: ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, Small Modular Reactor (SMR), জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়সহ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দেশের বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলা, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কম সক্ষমতার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর SMR বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আরও বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সুরক্ষিত ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বালানি ও পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তির বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।

বিশেষ করে Small Modular Reactor (SMR) প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও ব্যবহারকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা, SMR প্রযুক্তি, জ্বালানি খাতে সহায়তা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জ্বালানি খাতে অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ।

সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।