অপহরণ ও হত্যা মামলার ‘নিখোঁজ’ নারীকে ঢাকায় জীবিত উদ্ধার করল পিবিআই

 প্রকাশ: ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

অপহরণ ও হত্যা মামলার ‘নিখোঁজ’ নারীকে ঢাকায় জীবিত উদ্ধার করল পিবিআই

খুলনা ব্যুরো :

খুলনার কয়রায় অপহরণ করে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে করা মামলার এক নারী ভিকটিমকে ঢাকার একটি স্থান থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ওই নারীর নাম আয়শা খাতুন (৩৬)। তিনি কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তাঁর মা আমেনা খাতুন (৪৯) গত ৩ আগস্ট কয়রা আমলি আদালতে একটি সিআর মামলা করেন। মামলায় আয়শার স্বামী ইসলাম সরদারসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই কয়রা উপজেলার মসজিদকুড় ব্রিজের ওপর থেকে আয়শাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে অপহরণ করা হয়। পরে তাঁর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে আসামিরা আয়শাকে হত্যা করে লাশ গুম করেছেন বলে মামলায় আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁর মা।

পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই, খুলনাকে নির্দেশ দেন। পিবিআই খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম রাজীব রায়হানকে।

পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পারেন, আয়শা ঢাকায় অবস্থান করছেন। এরপর গতকাল সকাল আটটার দিকে পিবিআই খুলনার একটি দল ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করে।

পরে আদালতে হাজির করা হলে আয়শা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দি ও পিবিআইয়ের তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে ইসলাম সরদারের সঙ্গে আয়শার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে সংসার না করার সিদ্ধান্তের কথা পরিবারকে জানান আয়শা। তবে তাঁর বাবা-মা তাঁকে বুঝিয়ে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠান।

পিবিআইয়ের ভাষ্য, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় দেড় মাস আগে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে আয়শা স্বেচ্ছায় ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে আত্মগোপনে থাকেন। এদিকে তাঁর মা মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন।

পিবিআই খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, অপহরণ ও হত্যা মামলার ভিকটিমকে দ্রুত জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এতে পিবিআইয়ের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। মামলাটির তদন্ত এখনো চলছে।