খুমেকের প্লাটিলেট মেশিন অকেজো, দ্রুত চালুর দাবি
খুলনা ব্যুরো :
খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্লাটিলেট অ্যাফেরেসিস মেশিন অকেজো পড়ে থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। সংকটাপন্ন ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কম খরচে প্লাটিলেট সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে মেশিনটি দ্রুত সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২৪ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগে এক দিনে নতুন করে ২১৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই সময় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৫৭৫ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৪৪ জন।
এ অবস্থায় ডেঙ্গুর সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য প্লাটিলেটের প্রয়োজন হলে স্বজনদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তা সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকা প্লাটিলেট অ্যাফেরেসিস মেশিনটি সচল থাকলে তুলনামূলক কম খরচে এই সেবা দেওয়া সম্ভব হতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মেশিনটি সচল করতে বর্তমানে একটি ‘অ্যাফেরেসিস ব্যাগ’ প্রয়োজন। শুধু এই উপকরণের অভাবে সরকারি অর্থে কেনা গুরুত্বপূর্ণ মেশিনটি অকেজো পড়ে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের ভাষ্য, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাফেরেসিস প্লাটিলেট সংগ্রহে খরচ প্রায় ২ হাজার টাকা হতে পারে। বিপরীতে বেসরকারি হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে একই সেবার জন্য ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের জন্য সংকটাপন্ন রোগীর প্রয়োজনীয় প্লাটিলেট সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরকারি ব্যবস্থাপনার একটি আঞ্চলিক পর্যায়ের তৃতীয় স্তরের হাসপাতাল। ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালটির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জীবন রক্ষাকারী এই সেবাটিও দ্রুত চালুর দাবি উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি অর্থে কেনা কোটি টাকা মূল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাযন্ত্র প্রয়োজনীয় একটি উপকরণের অভাবে অকেজো পড়ে থাকা কাম্য নয়। দ্রুত প্রয়োজনীয় অ্যাফেরেসিস ব্যাগ সরবরাহ করে মেশিনটি সচল করা উচিত।
তাঁরা আরও বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখার প্রয়োজন। কম খরচে অ্যাফেরেসিস প্লাটিলেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে সংকটাপন্ন রোগীদের স্বজনদের আর্থিক চাপও কমবে।
বৃহত্তর খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত প্লাটিলেট অ্যাফেরেসিস সেবা চালু, প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ এবং মেশিনটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।