সাতক্ষীরার তালায় চিকিৎসার কথা বলে গৃহবধূকে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগ, রাজু ধরাছোঁয়ার বাইরে

 প্রকাশ: ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন   |   খুলনা

সাতক্ষীরার তালায় চিকিৎসার কথা বলে গৃহবধূকে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগ, রাজু ধরাছোঁয়ার বাইরে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার তালায় উন্নত চিকিৎসার কথা বলে এক অসুস্থ গৃহবধূকে ডেকে এনে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি রাজু সরদার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

মামলার এজাহার, ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাটি গ্রামের অসুস্থ ওই গৃহবধূকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা করানোর কথা বলে তালায় নিয়ে আসা হয়। রাজু সরদার নিজেকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে কর্মরত বলে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় রাতে হাসপাতালে চিকিৎসক পাওয়া যাবে না বলে ওই গৃহবধূকে তালা ব্রিজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বসবাসকারী এক নারীর সহযোগিতায় খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে গৃহবধূকে অচেতন করা হয়। এরপর রাজু তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

জ্ঞান ফেরার পর বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী ওই নারীকে জানালে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাতে রাজুসহ আরও এক যুবক তাকে ফের ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরদিন শুক্রবার সকালে কৌশলে ওই বাসা থেকে বের হয়ে তালা থানায় যান ভুক্তভোগী। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩২৮ ধারায় মামলা করেন। তালা থানায় করা এ মামলার নম্বর-১০।

মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রাথমিকভাবে আসামিদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়। পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির কাশিমনগর এলাকা থেকে শিপ্রা বিশ্বাস (৩৫) ও অনুপ বিশ্বাস (৩৮) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিপ্রা কাশিমনগর এলাকার সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী এবং অনুপ একই এলাকার দেবব্রত বিশ্বাসের ছেলে। অনুপ স্থানীয় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মচারী বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় রাজু সরদার উপজেলার আটারই গ্রামের ওবায়দুল সরদারের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, রাজুর বাবা ওবায়দুল সরদার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া এবং সংবাদ প্রকাশ বন্ধের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল সরদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দীক দুইজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার প্রধান আসামি রাজু সরদারকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement