ঘেরের আইলে সবজি, পানিতে মাছ—এক জমিতেই দুই আয়

 প্রকাশ: ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন   |   খুলনা

ঘেরের আইলে সবজি, পানিতে মাছ—এক জমিতেই দুই আয়

মাসুদ আল হাসান ,খুলনা :

একই জমি। ঘেরের পানিতে মাছ, আর আইলে মাচা করে সবজি। লাউ, কুমড়া, করলা, ধুন্দুল, ঝিঙে, বরবটি, পুঁইশাকসহ নানা সবজিতে এখন সবুজ হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার তালার মৎস্যঘেরগুলো। এতে মাছের পাশাপাশি সবজি বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকেরা। একই সঙ্গে কাজে লাগছে ঘেরের অব্যবহৃত আইলও।

খুলনা–সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশে তালার পাটকেলঘাটা, নগরঘাটা ও শাকদহ বিল এলাকায় গেলে চোখে পড়ে এমন দৃশ্য। সারি সারি মৎস্যঘেরের আইলে বাঁশ, নেট ও কটসুতা দিয়ে তৈরি মাচা। সেই মাচায় ঝুলছে কাঁচা লাউ, কুমড়া ও করলা। কোথাও আবার আইলজুড়ে পুঁইশাক, ঢ্যাঁড়স, বেগুন ও লালশাক। নিচে ঘেরের পানিতে চলছে মাছ চাষ।

তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নগরঘাটা, সরুলিয়া, খলিষখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ২৭৬ হেক্টর জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মৎস্যঘেরের আইলে সবজি চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হওয়ায় এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

সম্প্রতি পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি, নগরঘাটা ও শাকদহ বিল এলাকায় দেখা যায়, শত শত হেক্টর মৎস্যঘেরের আইলে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। কোনো কোনো ঘেরে তরমুজও চাষ করা হয়েছে। মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষেরও নজর কাড়ছে ঘেরের চারপাশের সবুজ দৃশ্য।

পাটকেলঘাটার কৃষক শহিদুল ইসলাম তিন বিঘা মৎস্যঘেরের আইলে লাউ, কুমড়া ও করলা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, মাচা তৈরিতে বাঁশ, নেট ও কটসুতা কিনতে তাঁর প্রায় ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে সবজি বিক্রি করে অর্ধলক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। মাঘ মাস পর্যন্ত সবজি উৎপাদন চলবে। এরপর ঘেরের পানি শুকিয়ে গেলে সেখানে ধান চাষ করবেন তিনি।

কয়েক বছর ধরে এ পদ্ধতিতে চাষ করছেন আব্দুর রহিম সরদার। তাঁর ভাষ্য, প্রতিবছর নতুন করে মাচা তৈরির প্রয়োজন হয় না। দুই–তিন বছর পরপর মাচা তৈরি করলেই চলে। এতে পরের বছরগুলোতে খরচ কমে যায়, ফলে লাভও বাড়ে।

নগরঘাটা ও আশপাশের এলাকার হাবু, আমিনুর, সেলিম সরদার, আবু হোসেন ও আমান উল্লাহর ঘেরেও দেখা গেছে একই চিত্র। মাছের সঙ্গে সবজি উৎপাদন করে তাঁরা ঘেরের আইল থেকে বাড়তি আয় করছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘেরের আইল সাধারণত মাছ চাষে সরাসরি কাজে লাগে না। সেই জায়গায় সবজি চাষ করায় একই জমি থেকে মাছ ও সবজি—দুই ধরনের উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাড়ছে পারিবারিক আয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও বাড়ছে তাজা সবজির সরবরাহ।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, ঘেরের পানিতে মাছ এবং আইলে সবজি চাষে মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যে এ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত এসব চাষাবাদ তদারক করছেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সমন্বিত এই চাষপদ্ধতিতে একই জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়ে। ফলে মৎস্যঘেরনির্ভর তালার কৃষিতে মাছের সঙ্গে সবজি চাষ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement