ওমরাহ পালনের জমানো টাকা দিয়ে গ্রামের রাস্তা সংস্কার
খুলনা ব্যুরো :
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের কেয়াখালী গ্রামের ১৫০ ফুট কাদামাখা রাস্তা সংস্কার করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান। স্ত্রীর ওমরাহ পালনের জন্য জমানো টাকা দিয়ে তিনি রাস্তাটিতে ইটের সোলিং করেছেন।
গত ২০ আগস্ট স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে নিজ উদ্যোগে রাস্তার সংস্কারকাজ শেষ করেন তিনি।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কেয়াখালী গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এই রাস্তাটি সংস্কারহীন ছিল। বর্ষায় রাস্তাটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে যেত। এতে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করেও রাস্তাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানান বাসিন্দারা।গ্রামবাসীর দুর্ভোগ দেখে বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামান। তাঁর স্ত্রী ওমরাহ পালনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে টাকা জমিয়েছিলেন। তবে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সেই সঞ্চিত অর্থ রাস্তা সংস্কারের কাজে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ওয়াহিদুজ্জামান ওই টাকা দিয়ে ইট ও বালু কিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তাটির সংস্কারকাজ শুরু করেন। পরে ইটের সোলিংয়ের মাধ্যমে ১৫০ ফুট রাস্তার সংস্কার শেষ করা হয়।
হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘মানুষের সেবা করাও ইবাদতের একটি অংশ। স্ত্রীর ওমরাহ পালনের ইচ্ছা ছিল। কিন্তু গ্রামের মানুষের প্রতিদিনের কষ্ট দেখে মনে হয়েছে, আগে তাঁদের দুর্ভোগটা দূর করা দরকার। আল্লাহ তাওফিক দিয়েছেন বলেই কাজটি করতে পেরেছি।’
ওয়াহিদুজ্জামানের মানবিক কর্মকাণ্ডের এটি প্রথম নয়। করোনাভাইরাস মহামারির সময় তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মরদেহ দাফন ও সৎকারের কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত একটি দাফন দল খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় করোনায় মৃত প্রায় দুই শতাধিক মানুষের দাফন ও সৎকারে অংশ নেয়।
রাস্তা সংস্কারের পর কেয়াখালী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হওয়ায় তাঁরা ওয়াহিদুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।