ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ নাম বদলের আদেশ বাতিল চান সেনেকারা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে নিউইয়র্কের আদিবাসী সেনেকা নেশন। সংগঠনটির দাবি, এই সিদ্ধান্ত ২২৫ বছরের বেশি পুরোনো একটি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং হ্রদটির নামের সঙ্গে জড়িত আদিবাসীদের প্রতি ‘নির্লজ্জ অসম্মান’ প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার সেনেকা নেশনের প্রেসিডেন্ট জে. কনরাড সেনেকা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে লেক অন্টারিও নামটি বহাল রাখার দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা প্রতিষ্ঠার বহু আগে হ্রদের আশপাশে বসবাসকারী আদিবাসীদের ইতিহাস ও পরিচয়ের প্রতিফলন এই নাম।
এক বিবৃতিতে সেনেকা বলেন, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট আমাদের সংস্কৃতির ওপর মালিকানা দাবি করতে বা সেটিকে মুছে দিতে পারেন না।’
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভৌগোলিক নামকরণ ব্যবস্থায় হ্রদটির নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধের উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আদেশ অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা।
সেনেকা নেশন বলছে, এই সিদ্ধান্ত ১৭৯৪ সালের ক্যানানডেইগুয়া চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ও হাউডেনোসনি কনফেডারেসির মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে স্থায়ী শান্তি ও বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেনেকা নেশন ওই কনফেডারেসির ছয়টি জাতির একটি, যা ইরোকোয়ি কনফেডারেসি নামেও পরিচিত।
লেক অন্টারিও নামটি এসেছে হুরন আদিবাসীদের ব্যবহৃত ‘ওনিয়াতারি:িও’ শব্দ থেকে। এর অর্থ ‘ঝলমলে জলের হ্রদ’। ১৮৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কানাডার অন্টারিও প্রদেশও হ্রদটির নাম থেকেই নাম পেয়েছে।
সেনেকা জানান, তাঁদের ঐতিহ্যবাহী ভাষায় হ্রদটির নাম ‘সগা:ন্যোদাই:ইয়োহ’, যার অর্থ ‘সুন্দর হ্রদ’।
কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর দেশটির পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। এর মধ্যেই ট্রাম্প হ্রদটির নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন। জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। কানাডার নেতারা নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি হ্রদটির আদিবাসী শিকড়ের কথা তুলে ধরে বলেন, এর নাম কানাডিয়ান কনফেডারেশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণারও আগের। কানাডাকে নাম পরিবর্তনে বাধ্য করার ক্ষমতা ট্রাম্পের নেই।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, বাণিজ্য ও সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা নিচ্ছে। এমনকি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।