রিপাবলিকানদের চাপে হাসান পিকারকে নিয়ে সতর্ক ডেমোক্র্যাটরা
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কক্ষের কংগ্রেসেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় থাকা ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছেন বামপন্থী অনলাইন ভাষ্যকার হাসান পিকার। রিপাবলিকানরা তাঁকে লক্ষ্য করে আক্রমণ বাড়ালেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের একটি অংশও পিকারকে নিজেদের জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
জনপ্রিয় এই অনলাইন ভাষ্যকারের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের আশঙ্কা, তাঁকে ঘিরে বিতর্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা থেকে নির্বাচনী আলোচনার দৃষ্টি সরিয়ে দিতে পারে।
মিশিগানের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিংগেল বুধবার পুনর্নির্বাচনী সমাবেশে পিকার প্রসঙ্গে বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি শেষ করেছি! নভেম্বরে কী হতে যাচ্ছে, সেটা পিকারকে নিয়ে নয়।’
৩৫ বছর বয়সী পিকার প্রতিদিন টুইচে সরাসরি অনুষ্ঠান করেন। তাঁর প্রায় ৩০ লাখ অনুসারী রয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টা তাঁর একটি সরাসরি অনুষ্ঠান অনুসরণ করে দেখা যায়, স্যুট ও টাই পরা পিকার দর্শকদের মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন, ভিডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে মত দেন এবং বারবার ইসরায়েলের সমালোচনা করেন।
তাঁর কথার ধরন ও উপস্থাপনার সঙ্গে ডানপন্থী কয়েকজন অনলাইন ভাষ্যকারের মিল রয়েছে, যারা ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে পিকার নিজেকে ‘সমাজতন্ত্রী’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী’ হিসেবে পরিচয় দেন।
ইহুদিদের নিয়ে মন্তব্যে বিতর্ক
চলতি বছরের বসন্তেও মিশিগানের মতো শিল্পাঞ্চলপ্রধান মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা পিকারের সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি প্রগতিশীল প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের সঙ্গে প্রচারেও অংশ নেন। এল-সাইয়েদ এখন ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন পেয়ে সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন।
তবে ২০ আগস্ট টুইচে দেওয়া পিকারের একটি বক্তব্যের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রকাশ্যে সমর্থনকারী ইহুদিরা নিজেদের হামলার ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন।
পিকার আরও বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে নিজেদের পরিচয়কে পুরোপুরি এক করে দেখানো এবং ইহুদি পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেশটির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা ইহুদিবিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এরপর এল-সাইয়েদ পিকার থেকে দূরত্ব তৈরি করেন। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ইহুদিবিদ্বেষকে ‘একটি অভিশাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নিজের মেয়েদের নিরাপত্তার প্রতি তাঁর যে অঙ্গীকার, ইহুদিদের নিরাপত্তার প্রতিও তাঁর একই অঙ্গীকার।
মিশিগানের আরেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য এলিসা স্লটকিনও পিকারের বক্তব্যের নিন্দা করেন। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষই সহিংসতার হুমকির মুখে পড়া উচিত নয়।
‘সমন্বিত অপপ্রচার’
বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার নিজের স্টুডিও থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান পিকার। ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা ব্রেসলেট পরা পিকার দাবি করেন, তিনি সারা জীবন ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়েছেন।
নিজেকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা, তবে বর্তমানে ধর্মচর্চা না করা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা পিকার বলেন, তিনি ‘সমন্বিত অপপ্রচার’ এবং ইসলামবিদ্বেষের শিকার।
এএফপির পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে তুর্কি বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া পিকার তাঁর গণমাধ্যম ক্যারিয়ার শুরু করেন বামঘেঁষা অনলাইন রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইয়াং টার্কস’-এ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা তাঁর চাচা।
২০১৯ সালে পিকার যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে তিনি সেই মন্তব্য থেকে সরে আসেন।
ইসরায়েল নিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা নেই বলেও জানিয়েছেন পিকার। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলপন্থী অবস্থান রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিল।
ইসরায়েল নিয়ে মার্কিন জনমত বদলাচ্ছে?
পিউ রিসার্চ সেন্টারের চলতি বছরের মে মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। ২০১৯ সালের এপ্রিলের জরিপে এই হার ছিল ৫১ শতাংশ।
তবে ইসরায়েলের জনগণের বিষয়ে চিত্রটি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। জরিপে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। ২০১৯ সালের এপ্রিলে এই হার ছিল ৬২ শতাংশ।