ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে বড় নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়নে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা, নতুন কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫% কার্যকর নিয়ন্ত্রণ

 প্রকাশ: ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে বড় নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের একটি বড় অংশের উন্নয়ন ও পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়তে যাচ্ছে। দেশটির ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়নের লক্ষ্যে ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তৈরি হবে।

ট্রাম্প জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব থাকবে।

ভেনেজুয়েলা সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় দেশটির ১৭টি তেলক্ষেত্র আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন করা হবে। এতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা সরকার ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর-রাজস্ব পেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

ডেলসি রদ্রিগেজও চুক্তিটিকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ও তেলশিল্প পুনরুজ্জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

নতুন কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা ও একটি বেসরকারি অপারেটরের অংশীদারত্বে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোম্পানিটি সংশ্লিষ্ট তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অধিকার দেওয়া হবে। নতুন কোম্পানির মোট উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা অংশীদারত্ব থাকবে। এর মধ্যে মালিকানার অংশের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ে তেল কেনার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে নজর যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার তেলের প্রতি ওয়াশিংটনের আগ্রহ বাড়ছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত পুনরায় পূরণেও এই চুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির দামও বেড়েছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশটিতে জ্বালানির গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ০৯ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ২১ ডলার

বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে

দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ সংকট, পুরোনো অবকাঠামো এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেলক্ষেত্র উন্নয়ন ও উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর আগে ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।