দেশীয় পশুতেই শতভাগ কোরবানি সম্পন্ন, জবাই হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি পশু

 প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

দেশীয় পশুতেই শতভাগ কোরবানি সম্পন্ন, জবাই হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি পশু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে এ বছর দেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় পশুর পুরো চাহিদাই দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমে পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। কোরবানি শেষে দেশে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

তিনি বলেন, চলতি বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। বিপরীতে দেশীয় খামারগুলোতে প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। ফলে কোরবানির চাহিদা পূরণের পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আট বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোরবানিকৃত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩টি এবং অন্যান্য পশু ১ হাজার ২৭টি

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সর্বাধিক কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে জবাই হয়েছে ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে কোরবানি হয়েছে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু। এছাড়া **চট্টগ্রাম বিভাগ**ে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি, **রংপুর বিভাগ**ে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি, **খুলনা বিভাগ**য় ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি, **বরিশাল বিভাগ**ে ৪ লাখ ১৬০টি, **ময়মনসিংহ বিভাগ**ে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি এবং **সিলেট বিভাগ**ে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু কোরবানি হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশে মোট ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু কোরবানি হয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরে কোরবানির সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮টি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা, খামারিদের নিরলস পরিশ্রম এবং উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের ফলে প্রাণিসম্পদ খাত এখন আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এবং প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও খামারিবান্ধব কার্যক্রম বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে।

ব্রিফিংয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement