৩০ বছরের লিজে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিল; কর্মসংস্থানের আশা, বিতর্কও সঙ্গে

 প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ন   |   খুলনা

৩০ বছরের লিজে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিল; কর্মসংস্থানের আশা, বিতর্কও সঙ্গে

মাসুদ আল হাসান, খুলনা, 

দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ার পর খুলনার ঐতিহ্যবাহী ক্রিসেন্ট জুট মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছে। আগামী আগস্টের মধ্যে ৩০ বছরের জন্য মিলটির পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নেবে মাহাবুব গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। তবে মিলের ভূমি ও স্থাপনার মালিকানা সরকারের কাছেই থাকবে।

গত ১৬ জুন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) এবং মাহাবুব গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা ভাড়া দিতে হবে। এ জন্য তারা সরকারি কোষাগারে ১৮ কোটি টাকা জামানত জমা দিয়েছে।

চুক্তির একটি শর্ত অনুযায়ী, মিল বুঝে নেওয়ার পর প্রথম ৩৬ মাস বিজেএমসিকে কোনো ভাড়া দিতে হবে না লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন বিনিয়োগ, যন্ত্রপাতি স্থাপন ও উৎপাদন কার্যক্রম চালুর জন্য সময় দিতে এ সুবিধা রাখা হয়েছে।

লোকসান ও উৎপাদন সংকটের কারণ দেখিয়ে ২০২০ সালের ১ জুলাই ক্রিসেন্ট জুট মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে বিজেএমসি। এরপর বিভিন্ন সময়ে মিলটি পুনরায় চালুর দাবি উঠলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন আর শুরু হয়নি। এবার সেটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

লিজ হস্তান্তরের আগে মিলের অব্যবহৃত তাঁত ও ব্যবহার অনুপযোগী লৌহ সরঞ্জাম টেন্ডারের মাধ্যমে ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ২৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। একই সময়ে রূপালী ব্যাংকের মূলধনী ঋণ পরিশোধ করেছে বিজেএমসি। তবে সুদ বাবদ জমে থাকা ৩২৫ কোটি ৩ লাখ টাকা মওকুফের জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক খান মো. কামরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় মিলটির অস্তিত্ব রক্ষা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হলে বছরে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। যদিও মিলটি চালু থাকাকালে সেখানে প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন।

ভৈরব নদের তীরে ১১৩ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা ক্রিসেন্ট জুট মিলের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৪ সালের ১ অক্টোবর। তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (ইপিআইডিসি) মিলটি প্রতিষ্ঠা করে। একসময় এটি এশিয়ার বৃহত্তম পাটকলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ছিল।

দীর্ঘ সরকারি ব্যবস্থাপনার অবসান ঘটিয়ে বেসরকারি খাতে মিলটির পরিচালনা শুরু হতে যাচ্ছে। এ সিদ্ধান্তে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হলেও লিজের শর্ত, বিশেষ করে প্রথম তিন বছর ভাড়া ছাড়ের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement