সুন্দরবনে ফের সক্রিয় বনদস্যুরা, বাড়ছে বনজীবীদের আতঙ্ক

 প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন   |   খুলনা

সুন্দরবনে ফের সক্রিয় বনদস্যুরা, বাড়ছে বনজীবীদের আতঙ্ক

খুলনা ব্যুরো :

দীর্ঘদিন দস্যুমুক্ত থাকার পর সুন্দরবনে আবারও বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত অন্তত সাতটি দস্যুবাহিনী সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তারা বনজীবী ও জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি ও দস্যুতার মতো অপরাধে জড়িত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনকে ঘিরে মোট ১২টি দস্যুবাহিনীর শতাধিক সদস্যের অবস্থান থাকলেও ধারাবাহিক অভিযানে কয়েকটি বাহিনী নিষ্ক্রিয় হয়েছে। বর্তমানে করিম শরীফ, দুলাভাই, বড় জাহাঙ্গীর, ছোট জাহাঙ্গীর, দয়াল, নানা ভাই (ডন) ও কাজল মুন্না (জনাব) বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, বনাঞ্চলের পাশাপাশি স্থলভাগে অবস্থানকারী দস্যুদের বিরুদ্ধেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুক্তিপণের অর্থ লেনদেন বিশ্লেষণ করে একাধিক দস্যুকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪১টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৩৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলেদের অভিযোগ, চুনকুড়ি, ধানোখালী, মামুন্দো ও মালঞ্চ নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরতে গেলে দস্যুদের কবলে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। তারা ট্রলার লুটের পাশাপাশি জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে, ফলে বনজীবীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, ইলিশ আহরণ ও মধু সংগ্রহ মৌসুমে দস্যুদের তৎপরতা বাড়ে। তবে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির কারণে তারা আগের মতো শক্ত অবস্থান নিতে পারছে না। তিনি দস্যুদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান নয়; আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের টেকসই পুনর্বাসন, বিকল্প কর্মসংস্থান, কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে সুন্দরবনকে দীর্ঘমেয়াদে দস্যুমুক্ত রাখা সম্ভব।

Advertisement
Advertisement
Advertisement