১১ দিন পার হলেও গ্রেফতার হয়নি মাদ্রাসা শিক্ষক মাথার ফোলা না কমায় শঙ্কায় নির্যাতিত শিশু ইসমাইলের পরিবার

 প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন   |   খুলনা

১১ দিন পার হলেও গ্রেফতার হয়নি মাদ্রাসা শিক্ষক    মাথার ফোলা না কমায় শঙ্কায় নির্যাতিত শিশু ইসমাইলের পরিবার

খুলনা ব্যুরো :

খুলনায় মাদ্রাসাশিক্ষকের মারধরের শিকার শিশু ইসমাইলের চোখ ও গলার আঘাত কিছুটা কমলেও মাথার অস্বাভাবিক ফোলা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে তার পরিবার। ঘটনার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তিনি এখনও পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ১৭ জুন রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়া এলাকার নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমিতে পড়া না পারার অভিযোগে ইসমাইলকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার মাথা, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং মস্তিষ্ক ও চোখের আশপাশে রক্ত জমাট বাঁধে। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরদিন শিশুটির বাবা ওমর ফারুক শিকদার সোনাডাঙ্গা থানায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শনিবার শিশুটির বাবা ওমর ফারুক শিকদার বলেন, একমাত্র ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। ইসমাইল ইতোমধ্যে পবিত্র কোরআনের নয় পারা মুখস্থ করেছে। তবে পড়া না পারার কারণে শিক্ষক প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। সর্বশেষ নির্যাতনের পর ছেলের চোখ ও গলার ফোলা কমলেও মাথার বাম পাশে এখনও অস্বাভাবিক ফোলা রয়েছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসক জানিয়েছেন, মাথার চামড়ার নিচে রক্ত জমে থাকায় এমনটি হয়েছে। ১৫ দিন পর আবার চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ওমর ফারুক শিকদার আরও বলেন, ঘটনার দিন চিকিৎসার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষকের ভাইয়ের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে এটি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের অপপ্রচার চলছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, টাকার বিনিময়ে তারা মামলার বিষয়ে নীরব রয়েছেন। তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে এবং তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন নির্যাতনের শিকার হতে না হয়।

শনিবার দুপুরে নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমিতে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান ফটক বন্ধ। সেখানে শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের কাউকে দেখা যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement