ভদ্রা নদী খননের মাটি বিক্রির অভিযোগে ফের সক্রিয় সিন্ডিকেট, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

 প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন   |   খুলনা

ভদ্রা নদী খননের মাটি বিক্রির অভিযোগে ফের সক্রিয় সিন্ডিকেট, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

খুলনা ব্যুরো :

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের মাটি বিক্রি ও অপসারণকে কেন্দ্র করে আবারও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নির্দেশনা ও পূর্ববর্তী অভিযানের পরও ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে খননের মাটি প্রকাশ্যে বিক্রি ও বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী খননের মাটি নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করে একটি চক্র দিনের পাশাপাশি রাতেও মাটি অপসারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছে। এতে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি নদী খনন প্রকল্পের উদ্দেশ্যও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খর্ণিয়া ইউনিয়নের পাঁচপোতা এলাকার রফিক ফকির। এছাড়া, স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসকে একাধিকবার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছবি-সংবলিত তথ্যসহ অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বলেন, নির্মাণাধীন সেতুর নিচে জমে থাকা ভরাট মাটি ঠিকাদারের অপসারণের সুযোগ থাকলেও নদী খননের মাটি অন্যত্র স্থানান্তর বা বিক্রির কোনো বিধান নেই।

এর আগে গত ৪ জুন দৈনিক সময়ের খবরসহ কয়েকটি পত্রিকায় "ভদ্রা নদী খননের মাটি হরিলুট, প্রশাসন নীরব!" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। পরে ৬ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাটি ব্যবসায়ী রফিক ফকিরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই অভিযানের পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বর্তমানে একই চক্র আবারও সক্রিয় হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ জুন দিনভর ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ি ও কৃষিজমি ভরাটে খননের মাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ক্রেতা দাবি করেন, “আমরা রফিকের কাছ থেকে মাটি কিনে জমি ভরাট করছি।”

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত রফিক ফকির, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement