গাজায় তাবুতে হামলা অব্যাহত, আল-আকসায় কড়াকড়ি আরও বাড়াল ইসরায়েলি বাহিনী
আন্তর্জাতিক ডেক্স নিউজ:
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হন। অন্যদিকে দক্ষিণের খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত একটি তাবুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু মানুষ আহত হন। একই এলাকায় ট্যাংকের গোলার আঘাতে নিহত হয় কিশোরী আইলিন আল-ফারা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৩ হাজার ৪৮০ জন আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ৪৩ জন আহত।
এদিকে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, কেরেম আবু সালেম ক্রসিং হয়ে ইসরায়েলের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়া ১৪ ফিলিস্তিনিকে গাজার আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনে সহায়তা করা হয়েছে। তবে সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল তাদের ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি। সব বন্দির অবস্থান প্রকাশ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আইসিআরসি।
অন্যদিকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় ১১০ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করে। একই সময়ে বহু ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং কয়েকজনের পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।
হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে টানা অষ্টম দিনের মতো আজান দিতে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, মুসল্লিদের উপস্থিতি কমিয়ে ধর্মীয় স্থাপনাটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
এ ছাড়া পশ্চিম তীরের কালান্দিয়া, নাবলুস, সেবাস্তিয়া ও বেইত সাহুরে অভিযান চালিয়ে একাধিক ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক তরুণ এবং আটক হওয়াদের মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন। ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের লক্ষ্য করেও দমন-পীড়ন বাড়ানো হচ্ছে। বন্দি চিকিৎসকদের মুক্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে তারা।