বেসরকারি ব্যাংক কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’-তে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার

 প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

বেসরকারি ব্যাংক কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’-তে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার

 নিজস্ব প্রতিবেদক:

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বেসরকারি ব্যাংক কর্মীদের জন্য উপযুক্ত স্কিম হিসেবে ‘প্রগতি’ কর্মসূচিকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সভা সঞ্চালনা করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আয়েশা হক।

সভায় জানানো হয়, দেশে বেসরকারি ব্যাংক কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পেনশন সুবিধার আওতায় নেই। এ পরিস্থিতিতে তাদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে ব্যাংকগুলোর এমডিদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ সময় সিদ্ধান্ত হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজস্ব কর্মীদের জন্য ‘প্রগতি’ স্কিমে নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক সভায় বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের জন্য পৃথক ডেস্ক স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি প্রচার কার্যক্রম বৃদ্ধি, ব্যানার ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ এবং বেসরকারি ব্যাংকের কর্মীদের স্কিমে সম্পৃক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বৈষম্যহীন সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতে কর্মরত জনগোষ্ঠীকে বার্ধক্যকালীন আর্থিক সুরক্ষার আওতায় আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অধীনে ‘প্রগতি’, ‘প্রবাস’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’—এই চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন। এর মধ্যে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৬০ কোটি টাকা, যা মুনাফাসহ বর্তমানে ২৮৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৪৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে ২৪টি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে চাঁদা গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দেশে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক-কর্মীর একটি বড় অংশ এখনো অবসর-পরবর্তী কোনো আর্থিক নিরাপত্তার আওতার বাইরে রয়েছে। এ শূন্যতা পূরণে ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ‘প্রগতি’ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্কিমের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাসিক চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বহন করবে। মাসিক চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। অংশগ্রহণকারীরা অবসরের পর আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি চাঁদার ওপর আয়কর রেয়াত ও পেনশন আয়করমুক্ত সুবিধা থাকবে। ৬০ বছর বয়স পূর্তির পর সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন গ্র্যাচুইটি উত্তোলনের সুযোগও থাকবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সভায় স্কিমটিকে আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক বিকল্প স্কিম চালু, নমিনিদের আজীবন সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, “যেসব বেসরকারি ব্যাংকের নিজস্ব পেনশন কাঠামো নেই, তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘প্রগতি’ স্কিমে যুক্ত হলে অবসর জীবনে একটি নিশ্চিত আর্থিক নিরাপত্তা পাবেন।”

বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement