সেচে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কৃষি উৎপাদন ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের কৃষি খাত, বিশেষ করে বোরো ধান উৎপাদন ব্যবস্থা সেচনির্ভর হওয়ায় সেচে ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
সরকারের জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্পের বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিটে ৭৯ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বের ৫ টাকা ২৫ পয়সার পরিবর্তে নতুন দর নির্ধারিত হয়েছে ৬ টাকা ৪ পয়সা। এতে সেচ খাতে বিদ্যুতের মূল্য প্রায় ১৫ দশমিক ০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে বোরো চাষাবাদে নিয়মিত ও দীর্ঘ সময় সেচের প্রয়োজন হয়। ফলে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি চাষাবাদের ব্যয় বাড়াবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এ অতিরিক্ত ব্যয় অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে কৃষকদের মুনাফার পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেচ ব্যয় বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্যের বাজারমূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কৃষি খাতের স্থিতিশীলতা ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা, ভর্তুকি এবং উৎপাদনবান্ধব নীতিগত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।