হামে দেশে শিশুমৃত্যু ৬০০ ছাড়াল, সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন প্রাপ্তবয়স্করাও
বিশেষ প্রতিনিধি:
দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ২১০ জন নতুন উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৫৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ৫২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৭৪ হাজার ৫৭২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এবং হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০১ জনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সফল টিকাদান কর্মসূচির ফলে দেশে হাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবারের সংক্রমণ পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী। অতীতের বিভিন্ন সময়ের তুলনায় বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, হাম শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে। রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট রোগীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স ১৫ বছরের বেশি। বর্তমানে সেখানে একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যেসব ব্যক্তি শৈশবে হামের পূর্ণ টিকা গ্রহণ করেননি, আগে কখনো হামে আক্রান্ত হননি অথবা বিভিন্ন রোগের কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তারা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত পৃথক রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও টিকাদান কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।