‘লাগেজ কেটে উপহার-সামগ্রী চুরি যাওয়া একজন হাজির সন্তান’ মর্মে ভাইরাল হওয়া ফেসবুক পোস্টের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন
ঢাকা, ২০ জ্যৈষ্ঠ (৩জুন):
আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘লাগেজ কেটে উপহার-সামগ্রী চুরি যাওয়া একজন হাজির সন্তান’ মর্মে একটি ভাইরাল হওয়া ফেসবুক পোস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে যে, পোস্টটিতে যাত্রীর মালামাল চুরির ঘটনাটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের নির্দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাৎক্ষণিকভাবে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃক প্রেরিত তদন্ত রিপোর্টে জানা যায় যে, গত ২ জুন, ২০২৬ তারিখে জেদ্দা থেকে ৪৯১ জন সম্মানিত হাজি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ হজ ফ্লাইট BG 3104 ঢাকা অবতরণ করে। পরবর্তীতে ‘মোখতার কামাল পলাশ’ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয় যে, প্রায় ১৫০ জনের লাগেজ কেটে মালামাল বের করে নিয়েছে ঢাকা বিমানবন্দরের ইমানদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, যা সম্পূর্ণ ভুল।
রিপোর্টে প্রেরিত তথ্যানুসারে, উক্ত ফ্লাইটে আসা ৮৩০ পিস লাগেজের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী তাদের ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের নিকট মৌখিকভাবে জানান। আগত যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উক্ত লাগেজগুলোর ভেতরে জমজমের পানি, বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী (শ্যাম্পু ও লোশন) এবং খেজুর ছিল। সম্মানিত যাত্রীদের ব্যাগ থেকে কোনো মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যায়নি। তবে একজন যাত্রী তার ব্যাগের ভেতর থেকে একটি সিগারেট হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন।
কর্তব্যরত বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফরা উক্ত যাত্রীগণকে বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড (LL Desk)-এ গিয়ে অফিসিয়াল লিখিত অভিযোগ (Property Irregularity Report - PIR) দায়ের করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সম্মানিত যাত্রীরা কোনো প্রকার লিখিত অভিযোগ দায়ের না করেই বিমানবন্দরের এলাকা ত্যাগ করেন।
সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী কোনো হাজি বা যাত্রী মূল চেক ইন লাগেজের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই জমজমের পানি বা যথাযথভাবে সিলগালা না করা প্রসাধনী সামগ্রী বহন করতে পারবেন না। জেদ্দা বিমানবন্দরে লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজ কেটে বা খুলে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ডিক্লারেশন ব্যতিত নগদ টাকা বা ম্যানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেয়া নিষিদ্ধ। ঢাকা বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিং এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্মানিত হাজিদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সম্মানিত যাত্রীগণের মালামাল নিরাপদে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারপরও যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বিদেশ থেকে মুঠোফোনে সম্পূর্ণ ঘটনার খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।