ঝড়ের পূর্বাভাসে ৫ অঞ্চলে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত, দুপুরের মধ্যেই ধেয়ে আসতে পারে দমকা হাওয়া
অনলাইন ডেস্ক:
সকালের শান্ত আকাশ হঠাৎ করেই মেঘলা রূপ নিতে শুরু করেছে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আজ দুপুরের মধ্যেই দেশের অন্তত ৫টি অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে তীব্র ঝড়ো হাওয়া ধেয়ে আসতে পারে। সেই সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিরও প্রবল শঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। ভোর ৫টা থেকে কার্যকর হওয়া এই সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের নৌ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মূলত দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে এই বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব বেশি দেখা যাবে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সকাল থেকেই এই অঞ্চলগুলোর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে এবং কোথাও কোথাও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও মেঘের ডাক শোনা যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রাক-বর্ষা বা মৌসুমী বায়ুর আগাম প্রভাব এবং বায়ুমণ্ডলের স্থানীয় তারতম্যের কারণে এই ধরনের আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। নদীপ্রধান এই অঞ্চলগুলোতে দুপুরের মধ্যে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ছোট ও মাঝারি আকারের নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চল এবং নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে না থেকে পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হচ্ছে।
দুপুরের এই সম্ভাব্য ঝড়ের পর বিকেলের দিকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের এবং নৌযান চালকদের সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে ও আবহাওয়ার সর্বশেষ খবরের দিকে নজর রাখতে অনুরোধ করেছে আবহাওয়া অফিস।