জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ড. খলিলুর রহমান: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দন ও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত
অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক নির্বাচনে সাইপ্রাসকে হারিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই বিশাল অর্জনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। এই জয়কে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের এই গৌরবময় অর্জনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। নিজের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে দেওয়া সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন।’ একই সাথে তিনি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতার কথা স্মরণ করে আরও বলেন যে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উভয় দেশের যৌথ অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে তিনি বাংলাদেশের নতুন এই নেতৃত্বের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বার্তা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার সুদৃঢ় কূটনৈতিক বন্ধন এবং বিশ্বমঞ্চে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকারকে আবারও পুনর্ব্যক্ত করল।
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। ড. খলিলুর রহমান মুখোমুখি হয়েছিলেন সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসের। বৈশ্বিক কূটনীতিতে দুই প্রার্থীরই ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা থাকায় ভোটের লড়াই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত সাধারণ পরিষদের ১৯০টি সদস্য দেশের ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান ৯৯টি দেশের সমর্থন লাভ করে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে এক বছরের জন্য জয়ী হন। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস পান ৯১টি দেশের ভোট। মাত্র ৮ ভোটের এই ব্যবধানই প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড. খলিলুর রহমানকে সভাপতি নির্বাচিত করতে বাংলাদেশকে কতটা সুনিপুণ ও দূরদর্শী কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হয়েছে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বৈশ্বিক এই সর্বোচ্চ ফোরামের নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং মহামারী পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মতো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এই নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. খলিলুর রহমানের এই ঐতিহাসিক বিজয় কেবল তাঁর ব্যক্তিগত যোগ্যতারই প্রমাণ নয়, বরং বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের এক বিশাল স্বীকৃতি। বিশ্বমঞ্চের এই শীর্ষ আসনে আসীন হয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।