সংবাদ শিরোনাম

মশা মারতে ফ্লোরিডা যাত্রা ঠেকালেন প্রধানমন্ত্রী, ডোবার পাশে বসে ‘কিলিং মিশন’ আবিষ্কারের পরামর্শ

 প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মশা মারতে ফ্লোরিডা যাত্রা ঠেকালেন প্রধানমন্ত্রী, ডোবার পাশে বসে ‘কিলিং মিশন’ আবিষ্কারের পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক:

সরকারি কর্মকর্তাদের ‘জ্ঞানার্জন’ বা অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে বিদেশ সফরের অদ্ভুত সব বাহানা বাংলাদেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়। কখনো ঘাস চাষ শিখতে, কখনো পুকুর খনন, কিংবা লিফট-এসি চালনার প্রশিক্ষণ নিতে সরকারি কোষাগারের লাখ লাখ টাকা খরচ করে কর্মকর্তাদের বিদেশ যাত্রার খবর গত দুই সরকারের আমলে প্রায়শই সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়েছে। এমনও দেখা গেছে, শিশুদের খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন শেখার মতো সাধারণ বিষয়েও রাষ্ট্রীয় অর্থ উড়িয়ে বিদেশে উড়াল দিয়েছেন আমলারা। জনমনে এসব নিয়ে তুমুল সমালোচনা আর সচেতন নাগরিকদের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও আগে কখনো শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন সফরের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর বা নজিরবিহীন বার্তা দেখা যায়নি। তবে এবার সেই চেনা সংস্কৃতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার একটি বিশেষ দল মশা নিধনের ‘উদ্ভাবনী কার্যক্রম’ সশরীরে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার এক অভিনব প্রস্তাবনা তৈরি করেন। জনস্বার্থের দোহাই দিয়ে তৈরি করা এই ফাইলের গন্তব্য ছিল খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কিন্তু অতীতে এমন ফাইল অনায়াসে ছাড়পত্র পেয়ে গেলেও এবার আর তা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিদেশ সফরের ফাইলে শুধু লালকালিই টানেননি, বরং যুক্ত করেছেন এমন এক মন্তব্য যা দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ফাইলটি নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী তার দাপ্তরিক নোটে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মশা নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এক প্রকার তির্যক রসাত্মক সুরেই তিনি লিখেছেন, ফ্লোরিডার বদলে দেশেই সন্ধ্যার পর কোনো ডোবার পাশে গিয়ে অবস্থান করলে মশা নিধনের প্রকৃত ও কার্যকর উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর এই সোজাসাপ্টা ও বাস্তবমুখী মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সচিবালয়ের অলিন্দে অলিন্দে এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।


অনেকেই এই ঘটনাকে সরকারি কর্মকর্তাদের ঢালাও বিদেশ সফরের সংস্কৃতিতে একটি বড় ধরনের লাগাম হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ছোট্ট নোটটি আসলে একটি গভীর বার্তা বহন করে। বার্তাটি হলো—জনগণের ট্যাক্সের টাকায় যেকোনো বিষয়ে চাইলেই আর প্রমোদভ্রমণ বা অপ্রয়োজনীয় সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে সরকারের শীর্ষ মহল কতটা কঠোর, এই একটি সিদ্ধান্তেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিজ হাতে লেখা ওই নোটটির ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘মশা মারতে কামান দাগানো’র কথাটি আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত। তবে মশার অছিলায় যে রাষ্ট্রীয় অপচয় ঠেকাতে এমন যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়, সেটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজ হাতে লেখা এই নোটটি বেশ ভালো করেই বুঝিয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, শুধু মশা নিধন নয়, আগামী দিনে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী সরকারি সফরের পথ বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর এই অনমনীয় অবস্থান দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement