চিরবিদায় নিলেন তোফায়েল আহমেদ: ভোলায় প্রিয় নেতার জানাজায় লাখো মানুষের ঢল
প্রতিবেদক, ভোলা:
বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বরেণ্য রাজনীতিবিদ এবং সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জীবনের শেষ যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে তাঁর প্রিয় জন্মভূমি ভোলায়। আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকেই দ্বীপজেলা ভোলার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে প্রিয় নেতাকে হারানোর বেদনায়। তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন লাখো মানুষ, যা রূপ নেয় এক অভূতপূর্ব জনতার ঢলে।
দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকা থেকে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ বহনকারী একটি বিশেষ হেলিকপ্টার ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে এসে পৌঁছায়। হেলিকপ্টারটি অবতরণের আগে থেকেই সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাধারণ মানুষ। কফিনটি যখন নিচে নামানো হয়, তখন উপস্থিত জনতা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সবার চোখে-মুখে ছিল প্রিয় অভিভাবককে হারানোর গভীর শোক।
হেলিপ্যাড থেকে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ একটি লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে কফিন পৌঁছামাত্রই মাঠের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দুপুর আড়াইটার পর এই ঐতিহাসিক মাঠেই তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় এক শীর্ষ আলেম। রাজনৈতিক সহকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই মহান নেতার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন। জানাজার পূর্বে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও দেশের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জানাজা শেষে এই বর্ষীয়ান নেতার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাঁর জন্মস্থান ভোলার দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে, যে মাটির কোলে শুয়ে আছেন তাঁর প্রিয় বাবা-মা, ঠিক তাঁদের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে ইতিহাসের এই মহানায়ককে। তোফায়েল আহমেদের এই প্রস্থান কেবল ভোলার মানুষের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।