শান্তির অমিয় বাণী নিয়ে ফিরছেন হাজিরা: প্রিয়জনের আলিঙ্গনে অশ্রুসজল চোখ, ৪২ জনের বিদায়ের শূন্যতা
অনলাইন ডেস্ক:
পবিত্র হজের মহান ও পুণ্যময় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শান্তির অমিয় বাণী বুকে নিয়ে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি হাজিরা। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ আর হৃদয়ে এক অপার্থিব প্রশান্তি নিয়ে একের পর এক ফিরতি ফ্লাইটে ঢাকার মাটিতে পা রাখছেন তারা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী টার্মিনালে এখন প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে এক আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে কেউ জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন, কেউবা পরম শ্রদ্ধায় মা-বাবার হাত চুম্বন করছেন। তবে এই আনন্দের আবহের সমান্তরালে দেশের ৪২টি পরিবারে চলছে শোকের মাতম, যারা হজের পুণ্যভূমিতেই ত্যাগ করেছেন শেষ নিঃশ্বাস।
হজ অফিসের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৩টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৭ হাজার ৬৮৯ জন বাংলাদেশি হাজি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, রানওয়েতে উড়োজাহাজের চাকা স্পর্শ করার পর থেকেই হাজিদের চোখে-মুখে ক্লান্তি ছাপিয়ে এক স্বর্গীয় তৃপ্তি ফুটে উঠছে। এবারের হজের ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনায় তিনটি শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের এই প্রথম বহরটি দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হাজিদের মধ্যেই ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে ২ হাজার ৮২ জন সরকারি ব্যবস্থাপনার বিশেষ সুযোগ-সুবিধায় এবং ১৫ হাজার ৬০৭ জন বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে পবিত্র হজ পালন করেছেন। তবে বিমানবন্দরের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর হাজিদের স্বজনেরা যখন আবেগে আপ্লুত, ঠিক তখনই হজের পবিত্র ভূমিতে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া ৪২ জন হাজির পরিবারের দীর্ঘশ্বাস বাতাসকে ভারী করে তুলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত যে ৪২ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ এবং ১৫ জন নারী। নিয়তির অমোষ নিয়মে তাদের মধ্যে ৩২ জন পবিত্র মক্কা নগরীতে এবং ১০ জন মহানবীর রওজা মোবারক জিয়ারত করতে গিয়ে পবিত্র মদিনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইসলামের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হজের সফরে মৃত্যুবরণ অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় হওয়ায় শোকার্ত পরিবারগুলো সান্ত্বনা খোঁজার চেষ্টা করছে। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পবিত্র মক্কা ও মদিনার মাটিতেই দাফন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল প্রথম হজ ফ্লাইটের মধ্য দিয়ে। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়ার সেই অগ্রযাত্রা শেষ হয় গত ২১ মে। এরপর অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর গত ৩০ মে থেকে শুরু হয়েছে ফিরতি হজ ফ্লাইট। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাজিদের শতভাগ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম বিরতিহীনভাবে চলমান থাকবে।