বিসিবি নির্বাচন ঘিরে আইনি জটিলতা: তফসিল ও ভোটার তালিকা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
ক্রীড়া প্রতিবেদক:
কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছিল আগেই। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বহু প্রতীক্ষিত পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র দিন পাঁচেক। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে যখন শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী হাওয়া বইছে, ঠিক তখনই দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই নির্বাচন ঘিরে তৈরি হলো বড় ধরনের আইনি জটিলতা। হুট করেই বিসিবি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল এবং প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (০২ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আইনি পদক্ষেপের ফলে নির্ধারিত সময়ে বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও নাটকীয়তার সৃষ্টি হলো, যা দেশের ক্রিকেট পাড়ায় এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ১৬ মে। সেদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘বিসিবি পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন–২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত সেই সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন সকাল থেকে পরিচালনা পরিষদের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে সেদিনই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তফসিল ঘোষণার পরদিনই, অর্থাৎ ১৭ মে নির্বাচন কমিশন তাদের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। এরপর থেকেই ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বেশ কিছু নিয়মকানুন নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ও অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণ পর্যন্ত গড়াল।
এবারের নির্বাচনের রূপরেখা অনুযায়ী, সারা দেশের কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর বাইরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পক্ষ থেকে মনোনীত হবেন আরও দুজন পরিচালক। এই পর্ষদ গঠনের পর নির্বাচিত ও মনোনীত ২৫ জন পরিচালক মিলে নিজেদের মধ্য থেকে ভোট দিয়ে একজনকে আগামী মেয়াদের জন্য বিসিবি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করবেন। কিন্তু নির্বাচনের দোরগোড়ায় এসে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আজ হাইকোর্টের শুনানিতে রিট আবেদনকারীদের যুক্তি এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের ওপরই ঝুলে রয়েছে ৭ জুনের নির্বাচনের ভাগ্য। ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সকলেই এখন গভীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন উচ্চ আদালতের আদেশের দিকে।