সংবাদ শিরোনাম

মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: আসছে নতুন মুখ, হচ্ছে দপ্তর পুনর্বণ্টন

 প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: আসছে নতুন মুখ, হচ্ছে দপ্তর পুনর্বণ্টন

অনলাইন ডেস্ক:

​প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভারসাম্য বজায় রাখতে খুব শিগগিরই সরকারের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল হতে যাচ্ছে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমান মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু নতুন মুখ যুক্ত হতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে এবং কাজের গতি বাড়াতে দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

​সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রী হিসেবে নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ সংসদ সদস্যের নাম রাজনৈতিক মহলে বেশ জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই তরুণ নেতা মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলে তা তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় বার্তা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখতে নরসিংদী থেকে আরও একজন হেভিওয়েট নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। হাওড় অঞ্চল ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নেত্রকোনা থেকে একজন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের একজন প্রভাবশালী নারী সংসদ সদস্যের নামও মন্ত্রী হিসেবে বেশ আলোচনায় উঠে এসেছে। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চমক হিসেবে আলোচনা চলছে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার একজন সিনিয়র বিএনপি নেতাকে নিয়ে, যাকে খুব শিগগিরই তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।

​নতুন এই রদবদলের হাওয়া কেবল ঢাকা বা এর আশেপাশেই সীমাবদ্ধ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, দেশের অন্যান্য প্রান্তের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে মূল্যায়নের অংশ হিসেবে খুলনা, ঢাকা ও বৃহত্তর পাবনা জেলা থেকেও কয়েকজন অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন। এর বাইরেও প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের মধ্য থেকে কাউকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও নীতিনির্ধারণী মহলে জোর আলোচনা চলছে। মূলত সরকারের দক্ষতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতেই এই বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

​এমন এক সময়ে এই রদবদলের গুঞ্জন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে, যার ঠিক আগেই সরকারের ভেতরে একটি বড় ধাক্কা লেগেছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সোমবার (১ জুন) আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় একজন পূর্ণ মন্ত্রীর এমন আকস্মিক পদত্যাগে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বেশ বিব্রত ও অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গন এবং প্রশাসনের অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন—দীপেন দেওয়ান সত্যিই কি কেবল শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রাজনৈতিক কারণ বা অভ্যন্তরীণ সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে।

​দীপেন দেওয়ানের এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝেও তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রাঙামাটিতে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসেন। তারা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে রাখেন, যার ফলে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

​উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ সদস্যের একটি বিশাল বহর নিয়ে পথ চলা শুরু করেছিল। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন দীপেন দেওয়ানের বিদায় এবং নতুন মুখদের আগমনের মাধ্যমে এই সংখ্যা ও দপ্তরের বিন্যাসে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদল আগামী দিনে সরকারের নীতি নির্ধারণ ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement