সংবাদ শিরোনাম

চমকপ্রদ পদত্যাগ পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে: দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক বিদায়

 প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

চমকপ্রদ পদত্যাগ পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে: দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক বিদায়

অনলাইন ডেস্ক:

​রাজনীতির অন্দরমহলে গুঞ্জনটা বেশ কিছুদিন ধরেই ভাসছিল, তবে তা যে এত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেবে—সেটি হয়তো অনেকেরই ধারণার বাইরে ছিল। এক নাটকীয় ও আকস্মিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে অবশেষে পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সোমবার দুপুরে তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজনীতির এক সংকটময় বা সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর এভাবে সরে দাঁড়ানো স্বাভাবিকভাবেই জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্ন আর সমীকরণের।

​খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মন্ত্রী তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তা যথানিয়মে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় কিংবা দীপেন দেওয়ানের ঘনিষ্ঠজনদের পক্ষ থেকে এখনও ধোঁয়াশা রাখা হয়েছে। কোনো এক অলিখিত সমঝোতা বা ব্যক্তিগত কারণের আড়ালে আসল সত্যটা ঢাকা থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর পেছনে ভিন্ন কোনো সমীকরণ দেখছেন।

​পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা একজন শীর্ষ নেতার পদত্যাগ সরকারের জন্য বেশ বড় একটি ধাক্কা। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীর ভেতরের অসন্তোষ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা চলছিল। অনেকেই মনে করছেন, মন্ত্রণালয়ের ভেতরে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা কিংবা নীতিগত কোনো বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সাথে মতপার্থক্যের জের ধরেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। আবার অন্য একটি পক্ষ বলছে, আসন্ন মন্ত্রিসভার রদবদলের অংশ হিসেবেই হয়তো তাঁকে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

​দীপেন দেওয়ানের এই বিদায় পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতেও এক বিশাল শূন্যতা ও নতুন মেরুকরণের জন্ম দেবে। পাহাড়ের শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সেখানকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালিদের মধ্যকার ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অপরিসীম। এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে পাহাড়ের অভিভাবকত্বে এই আকস্মিক পরিবর্তন সেখানকার চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে এখন তীব্র উৎকণ্ঠা কাজ করছে।

​আপাতত সবার চোখ এখন সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে। দীপেন দেওয়ানের এই শূন্য আসনে কাকে বসানো হচ্ছে এবং পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার জন্যই এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাজনৈতিক মহল। এই আকস্মিক বিদায় কেবল একটি পদের পরিবর্তন নয়, বরং সামনের দিনগুলোতে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement