সংবাদ শিরোনাম

ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর

 প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর

প্রতিনিধি,রাজবাড়ী:

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও এর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে এখনো নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে সেই অপতৎপরতা রুখে দিতে নেতাকর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে মাঠপর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেছেন, দেশ যখন একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই একটি মহল পেছনের দরজা দিয়ে ফায়দা লুটতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় ঘরে বসে কেবল ক্ষমতার স্বপ্ন দেখলে চলবে না, বরং অতীতে কী ঘটেছে তা ভুলে গিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে।

শনিবার বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক আজাদী ময়দান সংলগ্ন জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দিতেই দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি এই বিশেষ নির্দেশনা দেন সরকারের এই প্রভাবশালী নীতিপ্রণেতা।

আলোচনা সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে অলস সময় পার করার কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনের পূর্বে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খৈয়ম বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে ফ্যামিলি কার্ড ও প্রান্তিক চাষিদের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় কৃষক কার্ড প্রদানের কাজ পুরোদমে চলছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির আধুনিকায়নে দেশব্যাপী আবার খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।

কেবল অর্থনৈতিক মুক্তিই নয়, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বর্তমান সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সব ধর্মের মানুষের অধিকার সুসংহত করতে এবং ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও যাজকদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সরকারের এসব যুগান্তকারী উদ্যোগের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যুবদল, ছাত্রদলসহ বিএনপির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রামে গ্রামে ছুটে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে দলীয় ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দেশের বর্তমান সামাজিক ব্যাধি ও তরুণ সমাজের অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে মাদকের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে, যা চারদিকের সামাজিক পরিবেশকে কলুষিত করছে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে এই মাদকের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ নির্মূল করা জরুরি। তিনি নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় মাদকের কারবারি এবং এর পেছনের মদদদাতাদের খুঁজে বের করে প্রশাসনের সহায়তায় তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

অনুষ্ঠানে দলীয় ও স্থানীয় রাজনীতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে সভাপতির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু। এ সময় জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম দুলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব, যুগ্ম আহ্বায়ক আকমল হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ খালেদ পাভেল। এছাড়া শ্রমিক দল, কৃষক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা রাজপথের আন্দোলন ও পরবর্তী রাষ্ট্র গঠনে তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু ও সদস্য এ মজিদ বিশ্বাসের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার মূল পর্ব শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সার্বিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে এক বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয়, দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন দলটির স্থানীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement