সংবাদ শিরোনাম

ব্রাজিলের মাংস আমদানি স্থগিত করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কার্যকর ৩ সেপ্টেম্বর

 প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ব্রাজিলের মাংস আমদানি স্থগিত করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কার্যকর ৩ সেপ্টেম্বর

শাহনুর রুমেন | সাও পাওলো (ব্রাজিল)

ব্রাজিল থেকে মাংস ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য আমদানি আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে স্থগিত করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না—এমন উদ্বেগ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইইউর সিদ্ধান্তের ফলে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রাণিজ পণ্যের ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে গরুর মাংস, পোলট্রি, ডিম, মধু ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য রয়েছে।

ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মাংস রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির মাংস শিল্পের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হওয়ায় নতুন এই সিদ্ধান্ত রপ্তানি খাতে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারে ইউরোপের কঠোর অবস্থান

প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থান অনুসরণ করছে। বিশেষ করে মানুষের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রাণীর উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়ে ইউরোপে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

ব্রাজিল থেকে রপ্তানি হওয়া প্রাণিজ পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে এসব নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে।

ব্রাজিলের রপ্তানি খাতে প্রভাবের আশঙ্কা

ইউরোপীয় বাজারে মাংস রপ্তানি ব্রাজিলের কৃষি ও খাদ্যশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আমদানি স্থগিতের সিদ্ধান্ত দীর্ঘায়িত হলে দেশটির মাংস উৎপাদক, প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও রপ্তানিকারকদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।

তবে এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ব্রাজিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা বিধি পূরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দিতে পারলে ভবিষ্যতে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি পুনরায় চালুর সুযোগ রয়েছে।

আলোচনা ও সমাধানের পথ খোলা

ব্রাজিল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ব্রাজিলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে এবং ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে।

তবে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্ত ব্রাজিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।