গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ ১৫, উদ্ধার ৬২
ছবি-সংগৃহীতআন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যার পানিতে বড় বড় পাথর, ধাতব কাঠামো ও নানা ধরনের ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে কলোরাডো নদীতে পড়েছে।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় বন্যার পর রোববার সকাল পর্যন্ত ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ বা যাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, এমন প্রায় ১৫ জনের বিষয়ে তথ্য দিতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্যার পানিতে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা কয়েকটি পায়ে হাঁটার সেতু ভেসে গেছে। এতে ওই এলাকার ভূপ্রকৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। খালের তলদেশ প্রশস্ত হয়ে গেছে এবং সেখানে নতুন একটি জলপ্রপাত বা তীব্র স্রোতের ধারা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার জন্য রোববার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড, ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এবং নর্থ কাইবাব ট্রেইলের কিছু অংশ বন্ধ রাখা হয়। কলোরাডো নদীতে ভেলায় করে ভ্রমণের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
বন্যার সময় ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়নের একটি সরু পথ দিয়ে একদল চিকিৎসকের সঙ্গে হাঁটছিলেন পার্থ দেশাই। সঙ্গে ছিলেন পার্কের একজন রেঞ্জারও। হঠাৎ ভারী বৃষ্টি শুরু হলে তাঁরা চারদিকে পানির স্রোত, আকস্মিক জলপ্রপাত, বড় পাথর গড়িয়ে পড়া, কাদা ও ভূমিধস দেখতে পান।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের এই আকস্মিক পরিবর্তনকে স্বাভাবিক ভূপ্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউটা স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর কলোরাডো রিভার স্টাডিজের পরিচালক জ্যাক শ্মিট বলেন, এই ঘটনা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যে সবসময় পরিবর্তনশীল ও সক্রিয় একটি ভূপ্রকৃতি, সেটিই মনে করিয়ে দেয়।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের জননিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। রোববার আরও কয়েকটি এলাকায় মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এখন পর্যন্ত কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত ওই এলাকায় আরও বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের আশঙ্কা করা হয়েছিল। ফলে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি নতুন করে বন্যার ঝুঁকিও নজরে রাখছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আলজাজিরা